স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত রাজ্য সরকারের, কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিলের প্রস্তাব

কলকাতা : কলকাতার একাধিক নামী রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যবিধি চরম লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে আসার পর কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিল রাজ্য সরকার। প্রায় ৪০টি রেস্তোরাঁ ও খাদ্য বিক্রয় কেন্দ্রের লাইসেন্স স্থগিত করার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। বুধবার রাজ্যের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান, এই ধরনের গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে কেবল লাইসেন্স স্থগিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং লাইসেন্স পুরোপুরি বাতিল করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, রেস্তোরাঁ ও হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলা কিংবা মিষ্টির দোকানে ক্ষতিকারক কৃত্রিম রং ব্যবহার করা সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলার সামিল এবং এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তিনি আরও জানান, যেভাবে বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া পদক্ষেপ ও লাইসেন্স বাতিল করা হয়, ঠিক একইভাবে খাদ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনকারী রেস্তোরাঁ ও দোকানগুলির বিরুদ্ধেও রাজ্য প্রশাসন চরম কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি খাদ্য দফতরের তল্লাশি ও তদন্তে একাধিক স্থান থেকে পচা মাংস ও মাছ মজুত রাখা এবং খাবারে ক্ষতিকারক রাসায়নিক রং ব্যবহারের মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনার ভিত্তিতেই প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এই ইস্যুতে সোচ্চার হয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাধারণ মানুষকেও প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার পুরো ব্যবস্থাটিকে সুসংহত করার চেষ্টা করছে, তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষেরও সরব হওয়া প্রয়োজন। বিগত সরকারের আমলে এই ধরনের নানা অভিযোগ সামনে এলেও কোনো উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি তোপ দাগেন।

এরই পাশাপাশি তারাপীঠ এবং কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন গেস্ট হাউসগুলিতে প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তা মহড়া শুরু হয়েছে। সুরক্ষাবিধি মেনে না চলায় কলকাতা পুরসভার তরফে ইতিমধ্যে ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়েছে। দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে এত বিপুল সংখ্যক গেস্ট হাউস বন্ধের নোটিশে পর্যটন শিল্পে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ গেস্ট হাউস মালিকদের অবিলম্বে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকাঠামো গড়ে তুলে লাইসেন্স নবীকরণের আবেদন জানানোর পরামর্শ দেন, যাতে উৎসবের মরসুমে পর্যটকদের কোনো সমস্যা না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =