রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি সাহায্য, শ্রাবণী মেলার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা : শুভেন্দু অধিকারী

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকার এ বছর রথযাত্রা উৎসবে কেবল প্রশাসনিক স্তরেই নয়, বরং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। এর পাশাপাশি শ্রাবণ মাসে পুণ্যার্থী ও জলযাত্রীদের সুবিধার্থে বিশেষ পরিষেবার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং উৎসবগুলোতে সরকারের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতেই এই অনুদান দেওয়া হচ্ছে। পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, আগে সরকারের ভূমিকা কেবল কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশকর্মী মোতায়েন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “বিকাশ ও ঐতিহ্য” -র মন্ত্রকে পাথেয় করে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, এবার রাজ্য সরকার রথযাত্রা উৎসবে আনুষ্ঠানিক ও সক্রিয়ভাবে শামিল হবে যাতে এই ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে আরও সুশৃঙ্খল এবং জমকালো করে তোলা যায়।

শ্রাবণী মেলা উপলক্ষ্যে জলযাত্রীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর ধাম পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তায় প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এছাড়া, তারকেশ্বর ধামের সার্বিক উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের জন্য ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে।

জলযাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার তিনটি প্রধান ধর্মীয় স্থানকে সেবা কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, ভুটান সীমান্তের কাছে জয়ন্তী অঞ্চলের একটি প্রধান মন্দির এবং তারকেশ্বর ধাম। এই তিনটি তীর্থক্ষেত্রের আশেপাশের এলাকায় পুণ্যার্থীদের সমস্ত প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় আস্থা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে রাজ্যের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোতে পুণ্যার্থীরা আরও উন্নত পরিষেবা পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − 1 =