সিএএ-র পোর্টালে আবেদন করলেই বাতিল হবে নাগরিকত্ব! সাবধানবাণী মমতার, কাল শিলিগুড়িতে মিছিল

সিএএ কার্যকর হওয়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সিএএ-র বিরোধিতায় সুর চড়ালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার হাবড়ার সভা থেকে তিনি বলেন, ‘এর কোনও ভিত্তি নেই, স্বচ্ছতা নেই। ভোটের আগে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা। উনিশের আগেও অসমে এরকম করেছিল। ১৪ লক্ষ মানুষকে এনআরসি-র আওতায় এনে। এটা বেআইনি খেলা। এটা বিজেপির লুডো খেলার ছক্কা। ভাবছে মারলাম ছক্কা। কিন্তু আসলে পুট। জেনে রাখবেন, এর সঙ্গে এনআরসি যুক্ত আছে। পরের ধাপ এনআরসি।’

একের পর এক সভা থেকে সিএএ-র বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দিয়েছেন তিনি সিএএ মানেন না। এবার এই নয়া আইনের বিরুদ্ধে পথে নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বুধবার দুপুরে শিলিগুড়ি শহরে মিছিলে করবেন তিনি।

তাঁর সাবধানবাণী, ‘যেই সিএএ পোর্টালে দরখাস্ত করবেন, তখনই আপনাদের এতদিনকার নাগরিকত্ব বাতিল হবে। এতদিন যে সুযোগ সুবিধা পেতেন, তা বাদ হয়ে যাবে। তাই দরখাস্ত করার আগে ভালো করে ভেবে দেখবেন।’  মুখ্যমন্ত্রীর আরও বক্তব্য, এটা পুরোপুরি ভাঁওতা, জুমলা। আগে আপনাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে। তার পর সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে। কিন্তু সেই অধিকার আবার ফিরে পাবেন কিনা, তার নিশ্চয়তা নেই।’

বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে তিনি বললেন, ‘যাঁরা এতদিন নাগরিক ছিলেন, তাঁরাই হয়ে যাবেন অনুপ্রবেশকারী। আপনাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। আপনাদের জায়গা হবে ডিটেনশন ক্যাম্পে। আমি থাকতে রাজ্যে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেব না এখানে। জীবন দিয়ে দেব, তবু কারও নাগরিকত্বের অধিকার কাড়তে দেব না। কেউ বঞ্চিত হলে আমরা আশ্রয় দেব। এই আইন কার্যকর করার কোনও পদ্ধতি বিজ্ঞপ্তিতে বলা নেই। আমি বলি, এই আইন অসাংবিধানিক এবং বিভেদকামী। নইলে কেন তিন প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে আসা শুধু হিন্দুদের আশ্রয় দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে?’

বঙ্গবাসীকে আশ্বস্ত করে মমতার আরও বার্তা, ‘আপনাদের ভয় পাওয়ার দরকার নেই। আপনারা বহাল তবিয়তে বাংলায় থাকুন। কারও কিচ্ছু হবে না। কারও কিছু হলে আমরা আপনাদের আশ্রয় দেব। আইনটা সরিয়ে ফেলুন। আগামী দিনে সাবধানে থাকতে হবে।’

হাবড়ার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ফর্মের এক জায়গায় বলা হয়েছে বাবার বার্থ সার্টিফিকেট জমা দাও। সবার বাবার বার্থ সার্টিফিকেট আছে?’ এরপরই তিনি জানান, তাঁর বাবার জন্মের শংসাপত্র নেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাবার বার্থ সার্টিফিকেট নেই। আমি বাবা-মার জন্মদিনই কবে জানি না।’ সামনে উপস্থিত জনগণকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমার মতো আপনাদেরও এমন অনেক পরিবার আছে যাঁদের  ৫০-৬০ বয়স,  তাঁরা বার্থ সার্টিফিকেট খুঁজে পাবেন তো?’

এদিন শিলিগুড়ির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বুধবার শিলিগুড়ি শহরে প্রতিবাদ মিছিল করবেন। শিলিগুড়ি শহরের মৈনাক থেকে ভেনাস মোড় পর্যন্ত সিএএ এবং এনআরসি- র বিরুদ্ধে মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান, মিছিল হবে বেলা দেড়টায়। প্রতিটি ধর্মের মানুষকে মিছিলে অংশ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =