বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ-খুন মামলা: বসিরহাট থেকে গ্রেফতার চতুর্থ অভিযুক্ত

কলকাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্তে নেমে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর হাতে এল আরও এক বড় সাফল্য। এই ঘটনার চতুর্থ অভিযুক্ত কবির মোল্লাকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর মামলার তদন্তের গতি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে গ্রেফতার হওয়া মূল অভিযুক্তদের অন্যতম প্রভাস মণ্ডলের বুধবার ভোরে পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করানোর সময় সে এক পুলিশ কর্মীর সার্ভিস রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে সে জখম হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়।

এই মামলার অন্য দুই অভিযুক্ত দিবাকর সর্দার এবং আনন্দ সর্দার বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। পুলিশের মতে, আনন্দ সর্দারই এই পুরো ঘটনার মূল অভিযুক্ত এবং চক্রান্তকারী।

গ্রেফতার হওয়া কবির মোল্লাকে বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য দিকগুলি খতিয়ে দেখতে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানাবে সরকারি পক্ষ।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার বারুইপুরে পৌঁছান এবং জেলা পুলিশ কার্যালয়ে পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই ঘটনার তদন্তে পুলিশ ও প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর গত রবিবার প্রতিবাদের নামে যে হিংসা ছড়ানো হয়েছিল, পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল, তারও আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে এবং কোনো অপরাধীকে রেয়াত করা হবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর ওই হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রবিবার নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর ওই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ২৬ বছর বয়সী ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশের তদন্তে জানা যায় যে, ওই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে ইন্দ্রজিতের কোনো যোগ ছিল না এবং সে সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিল। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × three =