বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু হল ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য স্মরণীয় জয় দিয়ে। তিরুঅনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতল ভারত। জয়ের নায়ক দুই ব্যাটার—অধিনায়ক শুভমন গিল এবং বিরাট কোহলি। দু’জনেই শতরান করলেন। তার মধ্যেই নিজের ক্রিকেটজীবনে আরও একটি বড় মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন বিরাট।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে ২৯৫ রান করে। জাস্টিন গ্রিভস শতরান করে দলের ইনিংসকে ভরসা দেন। সেই রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিল না। রোহিত শর্মা ৩২ রান করে ফিরে যান। কিন্তু এর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় শুভমন এবং বিরাটের হাতে।
অধিনায়ক শুভমন দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেন। ১০৮ বলে ১১০ রান করে তিনি শতরান পূর্ণ করেন। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে বিরাট শুরু থেকেই নিজের ছন্দে খেলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯ রান করেন তিনি। মাত্র ৪১.৩ ওভারেই ২৯৬ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের কার্যত কোনও সুযোগই দেননি দুই ভারতীয় ব্যাটার।
এই ইনিংসের মাঝেই বিরাট পৌঁছে যান এক দিনের ক্রিকেটে ১৫ হাজার রানের মাইলফলকে। ম্যাচের আগে তাঁর রান ছিল ১৪৯৪১। প্রয়োজন ছিল ৫৯ রান। ৪৭ বলেই সেই রান তুলে নেন তিনি। ছক্কা মেরে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর চার মেরে ১৫ হাজার রানের গণ্ডি পেরোন বিরাট। এক দিনের ক্রিকেটে শচীন তেন্ডুলকরের পর দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। তবে শচীনের তুলনায় অনেক কম ইনিংসে এই জায়গায় পৌঁছেছেন বিরাট।
১৫ হাজারের মাইলফলকের পরও তাঁর ব্যাট থামেনি। ১৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে নিজের ৮৬তম আন্তর্জাতিক শতরান পূর্ণ করেন বিরাট। এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর শতরানের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫। শুধু তাই নয়, ঘরের মাঠে এক দিনের ক্রিকেটে শচীনের ৬৯৭৬ রানের নজিরও ছাপিয়ে গেলেন তিনি। ঘরের মাঠে শতরানের সংখ্যাতেও শচীনের ৪২টি শতরানের পাশে নিজের নাম বসালেন।
তিরুঅনন্তপুরমে বিরাটের রেকর্ড বরাবরই উজ্জ্বল। এই মাঠে ৩টি এক দিনের ম্যাচে তাঁর রান এখন ৩৩৮। রয়েছে ২টি শতরান। এই মাঠেই ভারতের মাটিতে এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৬৬ রানের ইনিংস এসেছিল। আরও উল্লেখযোগ্য, তিরুঅনন্তপুরমে এখনও পর্যন্ত এক দিনের ক্রিকেটে বিরাটকে এক বারও আউট করা যায়নি।
শুভমনের অধিনায়কত্বে শতরান এবং বিরাটের রেকর্ড ভাঙা ইনিংস—দুইয়ে মিলে প্রথম ম্যাচেই শক্তির পরিচয় দিল ভারত। বিশ্বকাপের আগে এমন দাপুটে জয় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।

