ভারতীয় ক্রিকেটে গত কয়েক বছরে বড় পরিবর্তনের সময় এসেছে, আর সেই পরিবর্তনের অন্যতম মুখ ছিলেন প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক সাফল্যের পিছনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তাই জুন মাসে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) তাঁর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি বাড়ানোর পথে হাঁটছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যাচ্ছে।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন আগরকর। সেই সময় ভারতীয় দল ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। বহু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাচ্ছিলেন বা কেরিয়ারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফলে নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়া, দল গঠন করা এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত তৈরি করা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আগরকর সেই দায়িত্ব গ্রহণ করে বেশ কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত নেন, যা শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়লেও পরে ফল দিতে শুরু করে।
তাঁর আমলেই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারত দারুণ সাফল্য পায়। ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপে ভারত ফাইনালে পৌঁছেছিল। যদিও ট্রফি জেতা হয়নি, তবে গোটা টুর্নামেন্টে ভারতের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। এরপর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারত আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং পরপর দু’বার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জেতে ভারতীয় দল। এত বড় বড় সাফল্যের ফলে আগরকরের পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী দৃষ্টিভঙ্গি যে কার্যকর হয়েছে, তা স্পষ্ট।
তবে তাঁর সময়কাল একেবারে বিতর্কহীন ছিল না। টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে কিছু হতাশাজনক হার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ সামিকে পারফর্ম করা সত্ত্বেও যথেষ্ট সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অনেকেই মনে করেন, সাদা বলের ক্রিকেটে সফল হলেও লাল বলের ক্রিকেটে দল নির্বাচন আরও উন্নত হতে পারত।
তবু বোর্ডের একাংশের মতে, আগরকরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো ট্র্যানজিশন পিরিয়ড সামলানো। ভারতীয় দলের মতো চাপের জায়গায় এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পরিবর্তন ঘটানো সহজ নয়। কিন্তু তরুণ ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রেখে, সিনিয়রদের সঠিকভাবে ব্যবহার করে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে তিনি দলকে স্থিতিশীল রেখেছেন।
খবর অনুযায়ী, IPL চলাকালীন সময়েই বোর্ড কর্তারা আগরকরের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আরও এক দফা মেয়াদ বাড়ানো হবে তাঁর। ODI বিশ্বকাপ ২০২৭ সামনে রেখে বোর্ড এখন স্থিরতা চাইছে। সেই কারণেই নতুন কাউকে এনে ঝুঁকি না নিয়ে আগরকরের উপরই আস্থা রাখতে চাইছে BCCI।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সাফল্য, সমালোচনা এবং পরিবর্তনের মাঝেও আগরকর নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন দূরদর্শী নির্বাচক হিসেবে। তাই তাঁর চুক্তি বৃদ্ধি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

