সাত ম্যাচ পর স্বস্তির জয় কেকেআরের ! রিঙ্কু-অনুকূলে ইডেনে হার রাজস্থানের

একটি-দু’টি নয়, টানা সাত ম্যাচ অপেক্ষার পর অবশেষে আইপিএলে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল কেকেআর। রবিবার ইডেন গার্ডেন্সে নাটকীয় ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটে হারাল কলকাতার দল। শেষ দুই বল বাকি থাকতে জয়ের রান তুলে নেয় তারা। তবে জয় এলেও কেকেআরের পারফরম্যান্সে স্বস্তির চেয়ে প্রশ্নই বেশি রয়ে গেল।
প্রথমে ব্যাট করে রাজস্থান ২০ ওভারে তোলে ১৫৫/৯। রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় কেকেআর। নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে তারা। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রয়োজনের সময় দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হন অভিজ্ঞ ব্যাটাররা। অযথা শট খেলে উইকেট ছুঁড়ে দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ম্যাচ জটিল করে তোলে কলকাতা।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন রিঙ্কু সিংহ। ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। শুরুতে খুব দ্রুত রান না এলেও তিনি উইকেটে টিকে থাকেন। পরে সুযোগ বুঝে আক্রমণ চালান। ৩৪ বলে অপরাজিত ৫৩ রান করেন রিঙ্কু। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ২টি ছয়। দীর্ঘদিন প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে না পারলেও এই ম্যাচে পুরনো রিঙ্কুকেই দেখা গেল।
তবে রিঙ্কুর লড়াই সফল হত না যদি পাশে অনুকূল রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না নিতেন। চাপের সময়ে তিনি দ্রুত ১৬ বলে ২৯ রান করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। দু’জনের জুটি কেকেআরকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। শেষ মুহূর্তে শান্ত মাথায় খেলে জয় নিশ্চিত করেন তারা।
জয় পেলেও কেকেআরের ব্যাটিং নিয়ে উদ্বেগ থেকেই গেল। সহজ ম্যাচকে কঠিন করে তোলার অভ্যাস যেন ছাড়তে পারছে না দল। ওপেনারদের ব্যর্থতা, মাঝের সারির অস্থিরতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন শট নির্বাচন আবার সামনে এল। এমন ব্যাটিং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বড় সমস্যায় ফেলতে পারে।
বোলিং বিভাগও খুব ধারালো ছিল না। যদিও রাজস্থানকে ১৫৫ রানে আটকে রাখা গেছে, তবু মাঝেমধ্যে ঢিলেঢালা বোলিং দেখা গিয়েছে। ফিল্ডিংয়েও ছিল ভুলভ্রান্তি। সহজ ক্যাচ মিস, মিসফিল্ড—সব মিলিয়ে কেকেআরের সামগ্রিক খেলায় এখনো ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট।
অন্যদিকে, এ দিনের ম্যাচে বড় আকর্ষণ ছিলেন ১৫ বছরের তরুণ বৈভব সূর্যবংশী। তাঁকে দেখতে ইডেনে সমর্থকদের বাড়তি উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণ এই ক্রিকেটারও হতাশ করেননি। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে কেকেআর বোলারদের চাপে ফেলেন তিনি। ২৮ বলে ৪৬ রান করেন বৈভব, যার মধ্যে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছয়। কয়েকটি দুর্দান্ত শটে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি। অল্পের জন্য অর্ধশতরান হাতছাড়া হলেও ভবিষ্যতের বড় তারকার ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন।
সব মিলিয়ে কেকেআর অবশেষে জয় পেল, কিন্তু এই জয় নিখুঁত নয়। রিঙ্কু ও অনুকূলের সাহসী ব্যাটিং দলকে রক্ষা করেছে। তবে যদি দ্রুত ভুলগুলো শুধরে নেওয়া না যায়, সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে কলকাতার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − seven =