কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে থমকে থাকা রেল প্রকল্পগুলির গতি বাড়াতে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার এবং এর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রসঙ্গে শনিবার নবান্নে (রাজ্য সচিবালয়) কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত জেলাশাসকদের রেল প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি জেলাকে স্পষ্ট করতে হবে যে কতখানি জমি কতদিনের মধ্যে দেওয়া সম্ভব, যাতে প্রকল্পগুলিতে অনাবশ্যক বিলম্ব না হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গে চলমান এবং প্রস্তাবিত সমস্ত রেল প্রকল্পের জন্য জমি সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বিশেষভাবে উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং নন্দীগ্রাম এলাকায় রেল যোগাযোগের সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, নন্দীগ্রাম এলাকায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রেল প্রকল্প জমি অধিগ্রহণে দেরির কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এছাড়া করিমপুর (নদিয়া), লালগড় (জঙ্গলমহল), সাগর এবং সুন্দরবনের মতো এলাকাগুলিকে নতুন রেললাইনের মাধ্যমে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনার ওপর কাজ করা হবে। পাশাপাশি নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, লালগড়, হিলি এবং সুন্দরবন এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি রাজ্য সরকার সরবরাহ করবে।
তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলির আমলে রেলের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি আশানুরূপ সহযোগিতা পায়নি, যার কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বকেয়া রয়ে গেছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, রাজ্য সরকার প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার এবং অধিগৃহীত জমি রেলকে হস্তান্তর করার কথা বলেছে, যাতে প্রকল্পগুলির কাজ সময়মতো শেষ করা যায়। বৈঠকে আরও জানানো হয় যে, রেলওয়ে বোর্ড এই প্রকল্পগুলির ১০০ শতাংশ খরচ বহন করতে সম্মত হয়েছে।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে জানানো হয় যে, ইউপিএ জমানায় পশ্চিমবঙ্গকে রেল প্রকল্পগুলির জন্য ৪,৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যেখানে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এক বছরেই ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
সরকারের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, বকেয়া অনাপত্তি শংসাপত্র (এনওসি) যদি সময়মতো জারি করা হয়, তবে রাজ্যে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব। প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এখন জমির সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমাধান করে রেল প্রকল্পগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

