শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াই হলেও জয়ের হ্যাটট্রিক পূরণ করতে পারল না রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে শেষ ওভারের উত্তেজনায় দিল্লি ক্যাপিটালস ৬ উইকেটে হারিয়ে দিল আরসিবিকে। ম্যাচের নায়ক ডেভিড মিলার। শেষ মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় চার-ছক্কা মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ত্রিস্তান স্টাবস ও অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেলের তৈরি করে দেওয়া ভিতের উপর দাঁড়িয়েই দিল্লি এই গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয়।
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। প্রতি বছরের মতো পরিবেশ সচেতনতার বার্তা দিতে সবুজ জার্সি পরে মাঠে নামে আরসিবি। তবে এই জার্সিতে নামলে দলটির ভাগ্য সাধারণত ভালো যায় না, এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বেঙ্গালুরু। বিরাট কোহলি খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। লুঙ্গি এনগিডির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। দেবদত্ত পাড়িক্কলও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন।
দলের ব্যাটিংকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তুলে নেন ফিল সল্ট। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দিল্লির বোলারদের চাপে রাখেন তিনি। মাত্র ৩৮ বলে ৬৩ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন সল্ট। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা। তবে কুলদীপ যাদব তাঁকে ফিরিয়ে দিলে আরসিবির রান তোলার গতি অনেকটাই কমে যায়। এরপর টিম ডেভিড ২৬ এবং জিতেশ শর্মা ১৪ রান করলেও শেষ দিকে বড় শটের অভাব দেখা যায়। একসময় ২০০ পার করার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে বেঙ্গালুরুর স্কোর দাঁড়ায় ১৭৫ রান। দিল্লির হয়ে এনগিডি, অক্ষর এবং কুলদীপ দুটি করে উইকেট নেন।
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দিল্লি। প্রথম ওভারেই পাথুম নিসঙ্কাকে ফিরিয়ে দেন ভুবনেশ্বর কুমার। এরপর করুণ নায়ার ও সমীর রিজভিও দ্রুত আউট হয়ে গেলে চাপে পড়ে যায় অতিথিরা। সেই সময় দায়িত্ব নেন কেএল রাহুল। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের মতো একদিকে উইকেট আগলে রেখে ইনিংস গড়তে থাকেন তিনি। প্রয়োজনমতো বাউন্ডারি মেরে দলকে ম্যাচে ফেরান।
রাহুল ৫৭ রান করে আউট হন বিরাট কোহলির অসাধারণ ক্যাচে। তাঁর বিদায়ের পর ম্যাচে নতুন মোড় আসে। ত্রিস্তান স্টাবস ও অক্ষর প্যাটেল দ্রুত রান তুলে সমীকরণ সহজ করে দেন। তবে শেষ দিকে কয়েকটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় আবার চাপ বাড়ে দিল্লির উপর। উপরন্তু চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় অধিনায়ক অক্ষরকে।
শেষ দুই ওভারে জশ হ্যাজেলউড দারুণ বোলিং করে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। তখনও জয় নিশ্চিত ছিল না দিল্লির। কিন্তু শেষ ওভারে সামনে এলেন ডেভিড মিলার। অভিজ্ঞ এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার প্রথমেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপ সরিয়ে দেন। এরপর একটি বিশাল ছক্কা মেরে ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেন তিনি। তাঁর ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে জয় পায় দিল্লি ক্যাপিটালস।
এই জয়ে দিল্লি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল, আর বেঙ্গালুরুকে ভাবতে হবে শেষ মুহূর্তে কোথায় ভুল হল। ফিল সল্টের দুর্দান্ত ইনিংস শেষ পর্যন্ত বিফলে গেল, আর ম্যাচের শেষ হাসি হাসলেন ‘কিলার’ মিলার।

