চেন্নাই সুপার কিংসের জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন শনিবার থেমে গেল হায়দরাবাদের মাঠে। টানা দুই জয়ের পর তৃতীয় ম্যাচেও জয়ের আশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই আশা পূরণ হল না। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ১০ রানে হারতে হল চেন্নাইকে। বোলাররা শুরুতে কিছুটা লড়াই করলেও বড় রান তাড়া করতে গিয়ে মাঝের ওভারে ছন্দ হারায় চেন্নাই। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে চলে যায় হায়দরাবাদের হাতে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা করে সানরাইজার্স। ওপেনার অভিষেক শর্মা ও ট্রেভিস হেড শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দু’জন দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন। চেন্নাই বোলারদের উপর চাপ তৈরি করে প্রথম পাঁচ ওভারেই বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয় তারা। বিশেষ করে অভিষেক শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করে তিনি ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে দেন।
তবে চেন্নাইয়ের হয়ে মুকেশ চৌধরি গুরুত্বপূর্ণ সময় দুই উইকেট তুলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন। একই ওভারে ট্রেভিস হেড ও ঈশান কিশনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আউট হন অভিষেকও। মাত্র ২২ বলে ৫৯ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল একাধিক চার ও ছয়। ওপেনারদের বিদায়ের পর হায়দরাবাদের রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। তবু মাঝের সারিতে হাইনরিখ ক্লাসেন দায়িত্ব নিয়ে খেলেন। ধৈর্য ও আক্রমণের মিশেলে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতরান করে দলকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৯৪ রান তোলে হায়দরাবাদ।
১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় চেন্নাই। দ্রুত আউট হয়ে ফেরেন সঞ্জু স্যামসন। যদিও আয়ুষ মাত্রে ও অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় পাল্টা আক্রমণ করে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন দলকে। চার ওভারেই ৬০ রান উঠে যায়। মনে হচ্ছিল চেন্নাই সহজেই ম্যাচে টিকে থাকবে। কিন্তু সেই সময় আয়ুষ আউট হতেই ইনিংসের গতি থেমে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেরেন রুতুরাজও।
এরপর ম্যাথু শর্ট ও সরফরাজ খান জুটি গড়ে লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন। দু’জনেই দায়িত্ব নিয়ে রান তুলছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকায় বড় শট খেলতেই হত। সেই ঝুঁকি নিতে গিয়ে দু’জনেই উইকেট হারান। বিশেষ করে এশান মালিঙ্গা দুর্দান্ত বোলিং করে চেন্নাইকে চাপে ফেলে দেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন তিনি।
শেষ দিকে কিছুটা চেষ্টা হলেও প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেনি চেন্নাই। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮৪ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। ফলে ১০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জয় পায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এই জয়ে তারা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল, অন্যদিকে চেন্নাই বুঝে গেল শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিংয়েও ধারাবাহিকতা দরকার।

