নরেন্দ্রপুর : মাছ চুরির অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বরুণ সরকারকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার একটি ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা বরুণ সরকারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনিবার সকালে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ভেড়িতে মাছ ধরতে যান বরুণ সরকার। বিষয়টি নজরে আসতেই এলাকার বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ফেলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চুরির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরুণ সরকারের আইনজীবী শেখ সোভান আলি। তিনি বলেন, “মাছ চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রতি বছর গঙ্গাপুজো বা পুকুর পরিষ্কারের সময় মাছ তোলা হয়। সেই ঘটনাকেই বিকৃতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।”
এদিকে এই গ্রেফতারির ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। নরেন্দ্রপুর থানার সামনে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। বিজেপি কর্মী কৃষ্ণ পাল বলেন, “যিনি একসময় এলাকায় প্রভাবশালী ছিলেন, তাঁকেই এখন মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হতে হচ্ছে।”
বিজেপির অপর কর্মী মিতা ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, এলাকায় বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে বরুণ সরকারের নাম জড়িত ছিল। নানা কাজের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তোলেন তিনি।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মাছ চুরির অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ধৃত কাউন্সিলরকে শনিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।

