কলকাতা : উত্তর ২৪ পরগনা জেলার টিটাগড় পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করল ইনাম খানকে। খড়দহ থানার পুলিশ শুক্রবার গভীর রাতে টিটাগড়ে তাঁর নিজস্ব বাসস্থান থেকে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইনাম খানের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া, তোলাবাজি এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা এতদিন প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সুর তীব্র হতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন পুরসভায় কাউন্সিলরদের ভূমিকা ও কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাধিক জায়গায় দুর্নীতি, কাটমানি এবং তোলাবাজির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই আবহে একাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হয়েছে।
শুক্রবারই টিটাগড় পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন ধরে, উপপুরপ্রধান সহ ছয়জন কাউন্সিলর নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেন। ২১ সদস্যের এই পুরবোর্ডে আগেই দুজন কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। এরপর শুক্রবার প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরী (১৬ নম্বর ওয়ার্ড), উপপুরপ্রধান মহম্মদ জলিল (১৯ নম্বর ওয়ার্ড), মুজিব রহমান (১৮ নম্বর ওয়ার্ড), আশা শর্মা (৭ নম্বর ওয়ার্ড), সরস্বতী দাস (২০ নম্বর ওয়ার্ড) এবং ইনাম খান (১২ নম্বর ওয়ার্ড) তাঁদের ইস্তফাপত্র জমা দেন।
ইস্তফা দেওয়া কাউন্সিলরদের দাবি ছিল, তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় স্বাধীনভাবে ও কার্যকর উপায়ে কাজ করতে পারছিলেন না। তাঁদের আরও অভিযোগ, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগাযোগ ছিল না। এই নাটকীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই শুক্রবার রাতে ইনাম খানের গ্রেফতারির খবর সামনে আসে।

