কলকাতা : এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) ও সিপিআই(এম)-এর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সকালে রাজ্য ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সদর দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে জনগণ যে স্পষ্ট রায় দিয়েছে, তাকে অমান্য করার উদ্দেশ্যেই বিরোধীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদক্ষেণকে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের কাজের ধরন নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা আসলে সম্পূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ভেঙে দেওয়ার এক পরিকল্পিত চক্রান্ত।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একা নেননি, বরং এটি নির্বাচন কমিশনের একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল। এই প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই শুনানি গ্রহণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, যে দল নিজে এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল, আজ তারাই আবার বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তুলছে। ২৭ লাখ নাম সংক্রান্ত চলমান বিতর্ক নিয়ে তিনি পরিষ্কার করেন যে, এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং আদালতের নির্দেশেই তাঁদের নিযুক্ত করা হয়েছিল। তাই এর পুরো দায় নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির ওপর চাপানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল।
তৃণমূল ও বামপন্থীদের ‘দ্বিমুখী নীতি’ প্রকাশ্যে এনে শুভেন্দু অধিকারী চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রশ্ন করেন, এসআইআর যদি সত্যিই গণতন্ত্রবিরোধী হয়ে থাকে, তবে বিরোধীরা কেরালায় এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে না কেন? তিনি বলেন, কেরালায় রাজনৈতিক সমীকরণ আলাদা হওয়ার কারণে সেখানে এসআইআর ঠিক, কিন্তু বাংলা ও বিহারে এসে তা ভুল হয়ে গেল কীভাবে?
এর পাশাপাশি তৃণমূল ও সিপিআই(এম)-এর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বোঝাপড়া নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যে তৃণমূলের জন্মই হয়েছিল বাম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে, আজ সেই দলই বিধানসভা থেকে শুরু করে রাস্তা পর্যন্ত সিপিআই(এম)-এর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভার একটি ভোটাভুটির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানে তৃণমূলের একটি অংশ এবং সিপিআই(এম)-এর একমাত্র বিধায়ক একই পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এসআইআর নিয়ে এই চরম হইচই আসলে নিজেদের দুর্নীতি থেকে জনগণের চোখ ঘোরাবানোর একটি কৌশল মাত্র। আবাসন যোজনা, সামাজিক সুরক্ষা, নিয়োগ দুর্নীতি এবং কয়লা-বালি ও গবাদি পশু পাচারের মতো একাধিক মামলায় চলমান তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপে বিরোধীরা মারাত্মকভাবে হতাশ হয়ে পড়েছে।
শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক সভার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেখানে সাধারণ মানুষের নগণ্য উপস্থিতিই এই তথাকথিত আন্দোলনের আসল সত্যিটা প্রকাশ করে দিয়েছে। তৃণমূলের নাম ও প্রতীকে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং দলের বিভাজনের (মমতা এআইটিসি) দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান এখন পুরোপুরি অস্পষ্ট।
বক্তব্যের শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করা এবং জনমতকে অপমান করার এই রাজনীতি বেশিদিন চলবে না, কারণ বাংলার জনগণ সব দেখছেন এবং সব বোঝেন।

