ভাতার পুরানো প্রতীক্ষা তালিকা বাতিল, মুখ্যমন্ত্রী করলেন নতুন করে আবেদনের আহ্বান

কলকাতা : বার্ধক্য, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী ভাতাকে কেন্দ্র করে এক বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, এসব ভাতার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের সমস্ত প্রতীক্ষাতালিকা বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের নতুন করে আবেদন জানাতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড স্তরে দু’দিনের বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হবে। এই শিবিরগুলিতেই নতুন আবেদনপত্র নেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে যোগ্য উপভোক্তাদের আবেদন যাচাই করে তাঁদের ভাতার আওতায় আনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা বার্ধক্য ভাতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন কিংবা রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে বঞ্চিত ছিলেন, নতুন আবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে যাঁরা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদনপত্রও নতুন করে যাচাই করা হবে। ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ প্রকল্পের মাধ্যমে যাঁরা আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যাচাইয়ের পর তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকার এবার সম্পূর্ণ নতুনভাবে যোগ্য উপভোক্তাদের প্রতীক্ষাতালিকা প্রস্তুত করবে।

ইতিমধ্যে সরকার তিনটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে প্রাপ্য ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে। এখন থেকে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জুলাই পর্যন্ত ১,০০০ টাকা পেয়ে আসা উপভোক্তাদের আগস্ট মাসের প্রাপ্য হিসেবে ইতিমধ্যেই বর্ধিত ১,৫০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন কেবল যোগ্য মানুষদের কাছেই পৌঁছায়, সেটাই সরকারের অগ্রাধিকার। ভুয়ো উপভোক্তাদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো অযোগ্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে যেন সরকারি সহায়তার অর্থ না যায়। বয়স বাড়িয়ে বা ভুয়ো জন্মপ্রমাণপত্রের ভিত্তিতে কিছু লোক বেআইনিভাবে বার্ধক্য ভাতা নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করায় বিশ্বাসী। তাই অবৈধ উপায়ে ভাতা গ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি আপিলও জানিয়েছেন।

বিধবা ভাতা পাওয়া ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ বিকল্পের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, এই বয়সের মহিলারা চাইলে বিধবা ভাতা ছেড়ে ৩,০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুযোগ নিতে পারেন, যাতে তাঁরা তুলনামূলক বেশি আর্থিক সাহায্য পাবেন।

অন্যদিকে, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি প্রতিবন্ধী মহিলাদের জন্য সরকার অতিরিক্ত সুবিধার কথা ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, এই বয়সি প্রতিবন্ধী মহিলারা ১,৫০০ টাকার প্রতিবন্ধী ভাতার পাশাপাশি ৩,০০০ টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুবিধাও পাবেন। ফলে তাঁরা প্রতি মাসে মোট ৪,৫০০ টাকা করে সাহায্য পাবেন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন থেকে রাজ্যজুড়ে মাসব্যাপী এক বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। সেদিন অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর পুরো রাজ্যজুড়ে পালিত হবে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’।

রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিগত সরকারগুলির ভুল আর্থিক নীতি ও রাজস্ব সংক্রান্ত নানা অনিয়মের কারণে রাজ্য সরকারের রাজকোষ চ্যলেঞ্জের মুখে রয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 5 =