আনা হচ্ছে নয়া পোর্টাল, ২০২৪ থেকে দু’দিনেই মেডিক্যাল ভিসা পাবেন বাংলাদেশি নাগরিকেরা

 

বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্যে আসা রোগীদের ভিসা পেতে অনেক সময়েই সমস্যা হয় বা অনেকটাই সময় লাগে। তবে এই সমস্যায় যাতে আর তাঁদের পড়তে না হয় সেই কারণে এবার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকেই। সহজে ভিসা পাওয়ার জন্য বিশেষ পোর্টাল তৈরি করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সূত্রে খবর, এখন ভিসার জন্যে কমবেশি এক থেকে দেড় মাস সময় লাগে। তবে নয়া তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সেই সময়টা কমিয়ে মাত্র দুদিনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি দফতর। সম্প্রতি এই নিয়ে দপ্তরের সচিব রাজীব কুমার বৈঠক করেন রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে। সেখানেই এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয় বলে জানান ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ হসপিটালস অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-র সভাপতি রূপক বড়ুয়া। এই প্রসঙ্গে তিনি এও জানান, ‘রাজ্য সরকার মেডিক্যাল টুরিজমের পরিধি বাড়াতে চাইছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান থেকে ফি বছর প্রচুর রোগী আসেন বাংলায়। ভিসা প্রক্রিয়া সহজ সরল হলে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।’ এদিকে নবান্ন সূত্রে যে খবর মিলছে তাতে দুসপ্তাহের মধ্যে এই পোর্টালটি চালু হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে চব্বিশের শুরু থেকেই পড়শি দেশের নাগরিকরা ভিস তৈরির ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, আবেদনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভিসা মঞ্জুর হয়ে যাবে।

এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ভিসা প্রক্রিয়া আরও বেশি রোগীভিত্তিক করা এই পোর্টালের লক্ষ্য। রোগীর পরিবার যেন ‘লজিস্টিক অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্ট ইনফরমেশন’ পান। কোন হাসপাতাল কীভাবে কাজ করছে এগুলো যেন স্পষ্ট করে জানার ব্যবস্থা থাকে। পরবর্তী বৈঠকে বাংলাদেশের উপদূতাবাসের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারেন বলে খবর।

এখানে একটা কথা বলতেই হয়, সম্প্রতি বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষেত্রভিত্তিক সেমিনারে মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে আলোচনা হয়। ২০২১ সালের তথ্য বলছে, বছরে ২৪ লক্ষ ৭০ হাজার মেডিক‌্যাল টুরিস্ট বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসে। শুধু বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা মানুষ মেডিক‌্যাল টুরিজমে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করে। এটা যারা মেডিক‌্যাল ভিসা নিয়ে যাচ্ছে তাদের তথ্য। এছাড়া অন্য ভিসাগ্রহীতারাও আছেন। রাজ্য হিসাবে এই সংখ্যাটা ভাগ করা মুশকিল। দিল্লি ও মুম্বইয়ে ১০ থেকে ১২ শতাংশ মানুষ যায়। সবচেয়ে বড় অংশ পায় পশ্চিমবঙ্গ, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী যায় তামিলনাড়ুতে, চেন্নাই ও সিএমসি ভেলোরে। এখন বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদেও কিছু মানুষ যাচ্ছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *