শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপ জয়ের পরেও ভারতীয় মহিলা দলের হাতে ওঠেনি ট্রফি। পাকিস্তানের এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিল প্রধান মহসিন নকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সোমবার বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া জানালেন, বিষয়টি কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল না। পরিস্থিতি ও দেশের আবেগ বিবেচনা করেই প্রতিষ্ঠানগত ভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
সইকিয়ার বক্তব্য, নকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কথা আগেই এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে ট্রফি গ্রহণ করা ভারতীয় দলের পক্ষে উপযুক্ত হত না। তবে এই সিদ্ধান্ত কোনও ভাবেই খেলোয়াড়, প্রতিযোগিতা বা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
এশিয়া কাপের ফাইনালে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত। কিন্তু পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নকভির কাছ থেকে ট্রফি নেওয়া হয়নি। নকভি শ্রীলঙ্কার রানার্স দলের হাতে পদক তুলে দেওয়ার পরেও মঞ্চে অপেক্ষা করছিলেন। ভারতীয় দল নিজেদের অবস্থান বদলায়নি। ফলে ট্রফি ছাড়াই উদ্যাপন করতে হয় তাদের।
গত বছর পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। সেই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার পর ২০২৫ সালের এশিয়া কাপেও ভারতীয় পুরুষ দল নকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি। মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতও হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এ বারের সিদ্ধান্তকে দেখছে বিসিসিআই।
তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সব ধরনের খেলাই বন্ধ করা হবে, এমন কোনও নীতি নেই বলে জানিয়েছেন সইকিয়া। তাঁর বক্তব্য, বহু দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় খেলা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ভারত সরকারের অনুমোদিত ক্রীড়া সূচি মেনেই এশিয়া কাপে অংশ নিয়েছে ভারত।
এশিয়া কাপ জয়ের পর এখন ভারতীয় মহিলা দলের লক্ষ্য এশিয়ান গেমস। আগের আসরে জেতা সোনা ধরে রাখার লক্ষ্যেই জাপানের উদ্দেশে রওনা হবে দল। এই মুহূর্তে ট্রফি বিতর্কের বদলে প্রস্তুতিতেই মন দিতে চাইছে ভারতীয় শিবির।

