শেষ রাউন্ডের আগে কলকাতা লিগের চ্যাম্পিয়নশিপের হিসাব একেবারে জটিল হয়ে গেল। সোমবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পয়েন্ট হারাল মোহনবাগান ও মহমেডান। সেই সুযোগে শেষ মুহূর্তের গোলে মহমেডানের বিরুদ্ধে হার বাঁচিয়ে লিগের দৌড়ে টিকে রইল ইস্টবেঙ্গল। ফলে শেষ রাউন্ডে কোন দল শিরোপা জিতবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক সম্ভাবনা।
কল্যাণী স্টেডিয়ামে মহমেডানের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে কিছুটা চাপের মধ্যে ছিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের শুরুতে মহমেডান একাধিক আক্রমণ করলেও গোল করতে পারেনি। ইস্টবেঙ্গলও তেমন ধারালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বিরতির পর লাল-হলুদের খেলায় গতি বাড়ে। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি তারা। উল্টো ৭০ মিনিটে লালথানকিমার গোলে এগিয়ে যায় মহমেডান।
গোল খাওয়ার পর মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। হারলে লিগ জয়ের দৌড় থেকে কার্যত ছিটকে যেতে হত তাদের। শেষ পর্যন্ত সেই বিপদ কাটে সংযুক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে। আকাশ হেমব্রম গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। তাঁর গোলেই ১ পয়েন্ট পেয়ে শেষ রাউন্ড পর্যন্ত নিজেদের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখে ইস্টবেঙ্গল।
অন্য ম্যাচে ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে মোহনবাগান প্রায় পুরো ম্যাচেই দাপট দেখায়। লিস্টন কোলাসো না থাকায় বাঁ প্রান্তে খেলেন অভিষেক সিংহ। ২৩ মিনিটে সাহাল আবদুল সামাদ গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। কিছুক্ষণ পর দীপক টাংরির শটও আটকে দেন ইউনাইটেডের গোলকিপার সৌরভ সামন্ত। প্রথমার্ধে গোল না এলেও দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগানের আক্রমণ অব্যাহত থাকে।
মনবীর সিংহের হেড বারের উপর দিয়ে চলে যায়। একাধিক সুযোগ নষ্টের পর সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে সন্দীপ মালিকের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। কিন্তু জয় নিশ্চিত করার আগেই বিপদ। সংযুক্ত সময়েই সুময় সোম গোল করে ইউনাইটেডকে সমতায় ফেরান। ফলে ৩ পয়েন্টের বদলে ১ পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সবুজ-মেরুনকে।
চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট যোগ না হওয়ায় এখন হিসাব আরও আকর্ষণীয়। মোহনবাগান ও মহমেডানের ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট, ইস্টবেঙ্গলের ২ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান ও মহমেডান। ইস্টবেঙ্গল খেলবে কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। দুই শীর্ষ দল ড্র করলে এবং ইস্টবেঙ্গল জিতলে তিন দলের পয়েন্ট হবে ৫। তখন কোল ইন্ডিয়াকে ৫ গোলের ব্যবধানে হারালেই শিরোপা উঠবে ইস্টবেঙ্গলের হাতে।

