ঋতিকা চক্রবর্তী: রবিবার আইএসএলের মেগা ডার্বিতে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। এই ম্যাচকে একপ্রকার অঘোষিত ফাইনাল বলা চলে। ডার্বি যে জিতবে আইএসএল লিগ শিল্ডও তার৷ হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইয়ের আগে চাপমুক্ত দুই দলের কোচ।
সাংবাদিক সম্মেলনে এসে একাধিকবার বোমা ফাটিয়েছেন কোচ অস্কার ব্রুঁজো। এদিন অবশ্য বাহ্যিক কোনও ব্যক্তি বা বিষয় নিয়ে তিনি আলোকপাত করলেন না। ডার্বি নিয়ে অস্কারের সোজাসাপ্টা বলেন, “এই মূহুর্তে ডার্বিটাই গুরুত্বপূর্ণ। সেটাতেই ফোকাস করতে হবে। আমি, ইস্টবেঙ্গলের কার্যকরী কমিটি, ইমামি কোনও কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের চিন্তাধারা আলাদা, আপাতত ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামতে হবে। গত কয়েক বছরে ইস্টবেঙ্গল খারাপ পরিস্থিতিতে ছিল, বিশেষ করে খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে। এখন দলের মধ্যে জেতার মানসিকতা তৈরি হয়েছে।”
নিজের প্রতিপক্ষ কোচের কথা উল্লেখ করে অস্কার বলেন, “লোবেরা ও আমি স্প্যানিশ কোচ। দুজনেরই একই মানসিকতা রয়েছে। আমরা আমাদের সব অস্ত্র ব্যবহার করে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলব, আমরা জিততে পছন্দ করি।” অনুশীলনে প্রথম একাদশে অ্যান্টন সজবার্গকে শুরু করতে দেখা গেল। সেক্ষেত্রে আইএসএলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইউসেফ এজ্জেজ্জারি হয়তো নামতে পারেন পরিবর্ত হিসেবে।
ইস্টবেঙ্গল মিডফিল্ডের অন্যতম ভরসা মহম্মদ রশিদ বলেন, “এই ম্যাচ (ডার্বি) এশিয়ার মঞ্চে অন্যতম বড় ম্যাচ। এই ম্যাচ সব ফুটবলাররাই খেলতে চায়, সবাই উপভোগ করতে চায়। দারুণ পরিবেশ থাকে। এই ধরনের পরিবেশে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে চাই। বিশ্বের সব ফুটবলাররাই এই ধরনের বড় ম্যাচ খেলতে চায়। সউল, মহেশকে মিস করব। তবে আমাদের সকলকে ফোকাস থাকতে হবে, ১১ জন ফুটবলারের কাজ কোচের নির্দেশ মেনে আশা করি নিজেদের সেরাটা দিতে পারব।”
অন্যদিকে অঘোষিত এই ফাইনাল ম্যাচকে উপভোগ করতে চান বাগান কোচ সের্জিও লোবেরা। ডার্বির আগে বেশ খোশমেজাজে দেখা গেল জেমি-কামিংসদের। সাংবাদিক সম্মেলনে কোচ লোবেরা বলেন, “আগামীকাল ফাইনাল। এই ধরনের ম্যাচে খেলতে চায় ফুটবলার ও কোচেরা। এই ফাইনাল আমরা জিততে চাই। আমাদের হাতে ভালো ফুটবলার রয়েছে। ডার্বি বরাবরই অনুপ্রেরণা, এবার ট্রফি জেতার বাড়তি সুযোগ রয়েছে। ট্রফি জিততে হলে ইস্টবেঙ্গলের মতো প্রতিপক্ষই চাই। ইস্টবেঙ্গল দলের বিরুদ্ধে খেলা চ্যালেঞ্জিং। এই ইস্টবেঙ্গল স্কোয়াড আইএসএল ইতিহাসে অন্যতম সেরা দল।”
পাশাপাশি মোহনবাগানের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আলবার্তো রদ্রিগেজ মানতে নারাজ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে আছে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না মনস্তাত্ত্বিক ভাবে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে আছে। মোহনবাগানও জেতার জন্য লড়াই করবে।”
ডার্বির ৬২,২০০ টিকিট নিঃশেষিত। অর্থাৎ প্রায় ভরা যুবভারতীর গ্যালারিতে নামবে দুই দল। সমর্থকদের সুবিধার্থে রাতে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থাকছে ২০০ অতিরিক্ত বাস। ম্যাচের পরও চালু থাকবে মেট্রো ও গঙ্গায় ফেরি পরিষেবা। যুবভারতীতে সমর্থকদের জন্য প্রত্যেক র্যাম্পে থাকছে পানীয় জলের ব্যবস্থা। বাজি জাতীয় কোনও দাহ্য বস্তু আনলে গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ। টিফো আনলে তা কোনও রাজনৈতিক প্ররোচনামূলক হলে আটকাতে পারেন পুলিশরা।

