প্লে-অফের স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে। কঠিন সমীকরণের মাঝেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। শনিবার ইডেন গার্ডেন্সে শক্তিশালী গুজরাত টাইটান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে সেই আশা আরও জোরালো করল অজিঙ্ক রাহানের দল। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি পয়েন্ট তুলে নিল কেকেআর।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল কলকাতা। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুজরাত বোলারদের কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন ফিন অ্যালেন ও অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। বিশেষ করে অ্যালেনের বিধ্বংসী ব্যাটিং ইডেনের দর্শকদের উন্মাদনায় ভাসিয়ে দেয়। পাওয়ার প্লে থেকেই শুরু হয় চার-ছক্কার ঝড়। অন্যদিকে তরুণ অঙ্গকৃষও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলেন। তাঁর ঝোড়ো ইনিংস কেকেআরকে বিশাল রানের ভিত গড়ে দেয়।
মাঝের ওভারেও রানের গতি কমতে দেননি নাইট ব্যাটাররা। গুজরাতের বোলাররা বারবার লাইন-লেন্থ হারান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৪৭ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোর তোলে কলকাতা। এই রান তাড়া করা যে সহজ হবে না, তা শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল।
তবে জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দুরন্ত করে গুজরাত। শুভমন গিল ও সাই সুদর্শন প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন। মাত্র তিন ওভারেই স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ৪২ রান। কিন্তু এরপরই ম্যাচে আসে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। কার্তিক ত্যাগীর একটি বল সোজা গিয়ে লাগে সুদর্শনের কনুইয়ে। চোটের জন্য কিছু সময় মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় তাঁকে। সেই ধাক্কার মধ্যেই নিশান্ত সিন্ধুকে ফিরিয়ে দেন সুনীল নারিন। দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মণীশ পাণ্ডে।
এরপর জস বাটলার ও শুভমন গিল লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন। তবে রান তোলার চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। গিল অবশ্য একাই ম্যাচে গুজরাতকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। ভারতীয় অধিনায়কের মতো দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি। মাত্র ৪৯ বলে ৮৫ রান করেন গিল। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও সাতটি বিশাল ছয়। বিশেষ করে বরুণ চক্রবর্তীর এক ওভারে ২২ রান তুলে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান তিনি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেকেআরের বোলাররাই পার্থক্য গড়ে দেন। চোট নিয়েও বল করেন বরুণ। অন্যদিকে তরুণ পেসার সৌরভ দুবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন। ১৯তম ওভারে মাত্র পাঁচ রান দিয়ে জস বাটলারের উইকেট তুলে নিয়ে গুজরাতের শেষ আশা কার্যত শেষ করে দেন তিনি। শেষ ওভারে অসম্ভব সমীকরণ আর মেলাতে পারেনি গুজরাত।
অবশেষে ২৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। ১২ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াল ১১। পয়েন্ট তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে এসে প্লে-অফের লড়াইয়ে নিজেদের এখনও জীবন্ত রাখল নাইটরা। ইডেন ছাড়লেন খুশির হাসি নিয়ে সমর্থকেরাও।

