বিজেপির ৪২তম প্রতিষ্ঠা দিবসে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা মোদির

বিজেপির (BJP) ৪২তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বক্তব্য রাখার সময় নিজেকে একজন সাধারণ বিজেপি কর্মী বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেই সঙ্গে সরাসরি নাম না করে কংগ্রেসকে তোপ দাগলেন ‘পরিবারবাদী পার্টি’ বলে। দাবি করলেন, কংগ্রেসের মতো দল দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, বিজেপি ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ মন্ত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

বুধবার মোদির ভাষণ ভিডিওয় দেখেছেন অগণিত বিজেপির নেতা-কর্মীরা। এদিন তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘দেশে এখন দু’ধরনের রাজনীতি হচ্ছে। একটা পরিবারবাদ, অন্যটা রাষ্ট্রবাদ। দেশে কয়েকটি রাজনৈতিক দল রয়েছে যারা পরিবারের জন্য কাজ করে। বিজেপিই পরিবারবাদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সেটাকে নির্বাচনের ইস্যু তৈরি করেছে। এখন দেশের মানুষ জানেন, পরিবারবাদী সরকার গণতন্ত্রে শত্রু। তারা সংবিধানের কিছুই বোঝে না।’

সেই সঙ্গে নিজেকে সাধারণ বিজেপি কর্মী বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিজেপি দেশের কাজ করে। আমিও একজন সাধারণ কর্মীর মতোই পরিশ্রম করতে চাই। সকলের পরিশ্রমেই উন্নতি হবে দেশের।’ সেই সঙ্গে মোদি আরও বলেন, ‘বিজেপি কর্মীরা দেশের স্বপ্নের প্রতিনিধি। এটা তাদের কর্তব্য পালনের সময়। দেশ বদলাচ্ছে। দেশ এগিয়ে চলেছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কোহিমা পর্যন্ত বিজেপি এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতের নীতিকেই এগিয়ে নিয়ে চলেছে।’

প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেছেন, এবারের প্রতিষ্ঠা দিবস ৩টি কারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, আমরা দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছি, উদযাপন করছি স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব। দ্বিতীয়ত, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা। ভারতে জন্য প্রতিনিয়ত নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তৃতীয়ত, কয়েক সপ্তাহ আগে চার রাজ্যে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিনের সরকার ফিরে এসেছে। তিন দশক পর রাজ্যসভায় কোনও দলের সদস্য সংখ্যা ১০০ ছুঁয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই অমৃতকাল ভারতের আত্মনির্ভর চিন্তাভাবনার, লোকালকে গ্লোকাল করার চেষ্টা করার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সম্প্রীতি তৈরি করা। এই অমৃতকাল প্রতিটি বিজেপি কর্মীর জন্য কর্তব্যকাল।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের সরকার জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে দেশে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার পাশাপাশি সঙ্কল্প ও শক্তিও রয়েছে। আমরা যে লক্ষ্য নির্ধারণ করছি, আমরা তা পূরণও করছি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, কিছুদিন আগেই দেশ ৪০০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৩০ লক্ষ কোটি টাকার পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। করোনার এই সময়ে এত বড় লক্ষ্য অর্জন ভারতের সক্ষমতা প্রদর্শন করে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে দু’রকম রাজনীতি চলছে, পরিবারবাদ ও রাষ্ট্রবাদ। এখন দেশে কয়েকটি রাজনৈতিক দল আছে যাঁদের পরিবারের সদস্যরা রাজনীতিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। দুর্নীতিতে একে অন্যকে সাহায্য করেন। দেশের যুব সম্প্রদায়কে এরা প্ররোচিত করে এসেছে। মোদি বলেছেন, কিছু দল নিজের পরিবারের জন্য কাজ করে। বিজেপি দেশের জন্য কাজ করে। আমি নিজেও বিজেপি-র সাধারণ কর্মীর মতো পরিশ্রম করব। আমরা সবাই মিলে রাষ্ট্রসেবায় নিয়োজিত থাকব। আপনাদের সবার পরিশ্রমে দেশ উন্নতি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − eleven =