আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির অবসর ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তাঁর অগণিত অনুরাগীদের মধ্যে নেমে এসেছে আবেগের ঢেউ। তবে এই হতাশার আবহেই কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য মিলেছে আশার খবর। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী বছর আবারও কলকাতার মাটিতে দেখা যেতে পারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে। এবার অবশ্য শুধুমাত্র সংবর্ধনা বা দর্শকদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানানো নয়, মাঠে নেমে খেলতেও দেখা যেতে পারে তাঁকে।
গত বছর মেসির কলকাতা সফর নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হলেও নানা সাংগঠনিক জটিলতা এবং বিতর্ক সেই উৎসবে ভাটা ফেলে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় হতাশ হয়েছিলেন হাজার হাজার সমর্থক। সেই ঘটনার পর থেকেই নতুন করে মেসিকে কলকাতায় আনার উদ্যোগ শুরু করেন আয়োজকদের অন্যতম মুখ শতদ্রু দত্ত। একাধিকবার তিনি জানিয়েছিলেন, আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও বড় এবং সুষ্ঠু আয়োজনের মাধ্যমে আবারও মেসিকে শহরে আনার চেষ্টা চলছে।
ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন সামাজিক মাধ্যমে শতদ্রুর একটি পোস্ট যথেষ্ট আলোড়ন তুলেছিল। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, যাঁরা তাঁর উপর বিশ্বাস রাখেন, তাঁদের জন্য আগামী বছর আরও বড় চমক অপেক্ষা করছে। যদিও পোস্টে মেসির নাম উল্লেখ ছিল না, তবু ফুটবল মহলের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, আর্জেন্টাইন মহাতারকাকেই ফের কলকাতায় আনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি।
মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পর শতদ্রু বলেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারের চাপ, বয়স এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি। তবে ক্লাব ফুটবলে তিনি এখনও সমানভাবে সক্রিয় থাকবেন। সেই কারণেই আগামী বছর তাঁকে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে কলকাতায় আনার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে দাবি করেন তিনি।
সূত্রের খবর, আগামী মরশুম শুরুর আগে ইন্টার মায়ামি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাক-মরশুম সফরের পরিকল্পনা করছে। সেই সফরের সম্ভাব্য গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে কলকাতা এবং বাংলাদেশ। এই সফর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজকদের সঙ্গে ইন্টার মায়ামির প্রতিনিধিদের ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। যদিও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবু আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
সব পরিকল্পনা সফল হলে এবার মেসিকে শুধুমাত্র দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়তে নয়, মাঠে নেমে প্রতিযোগিতামূলক প্রীতি ম্যাচ খেলতেও দেখা যেতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই এমন সম্ভাবনা ঘিরে ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাস ছড়াতে শুরু করেছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।
তবে গতবারের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে আয়োজকরা এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শক নিয়ন্ত্রণ, টিকিট ব্যবস্থাপনা এবং ম্যাচ আয়োজনের প্রতিটি বিষয় আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে আগের মতো কোনও বিশৃঙ্খলা বা বিতর্কের সৃষ্টি না হয়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে মেসির জাদু এখনও অটুট। তাই আগামী বছর যদি সত্যিই ইন্টার মায়ামির হয়ে কলকাতার মাঠে নামেন তিনি, তবে তা শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের ফুটবল ইতিহাসে এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। এখন সব নজর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে, যা নিশ্চিত হলে আবারও মেসিকে ঘিরে উন্মাদনায় মেতে উঠবে তিলোত্তমা।

