কলকাতা : কালীপুজো, দীপাবলি এবং ছটপুজোর আবহে শব্দদূষণ এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে দীপাবলির দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এবং ছটপুজোর দিন সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলো রাজ্য সরকারের তরফে| শুধু তাই নয়, কেবল অনুমোদিত পরিবেশবান্ধব বাজির ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি ও মজুতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার পরিবেশ ভবনে পশ্চিমবঙ্গের বন ও পরিবেশ দফতরের মন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও এই নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন। এদিন উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ দফতরের সদস্য ডঃ আকাশ প্রতাপ সিং এবং সুমিত গুপ্তা।
এদিন জানানো হয়, অনুমোদিত পরিবেশবান্ধব বাজির ব্যবহার করতে হবে রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে। এছাড়া, দীপাবলি এবং ছটপুজোর দিন সক্রিয় থাকবে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কন্ট্রোল রুম এবং বিশেষ ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল) দল। পর্ষদের টোল ফ্রি নম্বর ১৮০০-৩৪৫-৩৩৯০ এবং আরেকটি ফোন নম্বর ০৩৩-২২০২-৩০৫৭ এ শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ে অভিযোগ জানানো যাবে| অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
শব্দবাজির ক্ষেত্রে ১২৫ ডেসিবেল এবং আতসবাজির ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবেলের সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তবে হাসপাতাল এবং বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আকাশপ্রদীপ এবং ফানুস-এর ক্ষেত্রে অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে যেসকল বনেদি বাড়িগুলি পারিবারিক রীতি অনুসরণে ফি বছর আকাশপ্রদীপ কিংবা ফানুস ওড়ায়, তাদের রাজ্য অগ্নিনির্বাপক দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করতে হবে।
বাজি-বাজার স্থাপনের ক্ষেত্রেও থাকছে একাধিক নিয়ম। এপ্রসঙ্গে মন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও জানান, এবছর দুর্ঘটনা এড়াতে বাজির বাজারগুলিকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে আবাসিক এলাকা থেকে দূরে স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এইসকল বাজির বাজারগুলি পরিদর্শনের পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হবে। বেআইনি বাজি বাজেয়াপ্ত করা এবং আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তাও এদিন দিয়েছেন মন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও।

