দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে কোরিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে লক্ষ্য সেন

পিভি সিন্ধু আছেন। এইচ প্রণয়ের মতো তারকাও আছেন। কিন্তু ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের দুনিয়ায় এখন আকর্ষণের কেন্দ্রে কুড়ি বছরের এক প্রবাসী বাঙালি। উত্তরাখণ্ডের আলমোরার ছেলে লক্ষ্য সেন যে টুর্নামেন্টেই নামছেন, সেরা দিচ্ছেন। গত বছরের শেষ দুরন্ত ফর্মে আছেন তিনি। বিশ্ব মিটের সেমিফাইনালে উঠে পড়েছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে ইন্ডিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। জার্মান ওপেন ও অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠে হেরে গিয়েছেন। তবু লক্ষ্যকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে স্বপ্ন। কোরিয়া ওপেনের প্রথম রাউন্ডের বাধা টপকে গেলেন তিনি। তবে প্রতিপক্ষ চোই জি হুন কিন্তু সাময়িক চাপে ফেলে দিয়েছিলেন তাঁকে। দারুণ ভাবে ম্যাচে ফিরে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেন লক্ষ্য। গত ৬ মাস তাঁর দুরন্ত ফর্ম, অবিশ্বাস্য উত্থান, সারা ব্যাডমিন্টন দুনিয়াকে চমকে দিচ্ছে। কি ভাবে সম্ভব হল?

বিশ্ব ব্যাডমিন্টনে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণ কী? লক্ষ্যর ব্যাখ্যা হল, ‘অতিমারির সময় আমি অনেকখানি সময় পেয়েছিলাম হাতে। ওই সময়টাতে ফিটনেস নিয়ে প্রচুর কাজ করেছি। পরের পর্যায়ে উঠতে গেলে ফিটনেস মান যে বাড়াতে হবে, সেটা বুঝতে পেরেছিলাম। জুনিয়র প্লেয়ার ছিলাম যখন, আমি অ্যাটাকিং গেম খেলতাম। স্ম্যাশ করার চেষ্টা করতাম বেশি। কিন্তু সিনিয়র ব্যাডমিন্টনে সেরাটা দিতে হলে কিন্তু ধৈর্য রাখতে হবে। বিপক্ষের ফাঁকফোকর তৈরি করতে হবে। তার পর আক্রমণে যেতে হবে।’

একই সঙ্গে লক্ষ্য বলছেন, বেশ কিছু বড় মাপের তারকাকে হারানোর জন্য তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছে অনেকখানি। লক্ষ্যর কথায়, ‘ভিক্টর আলেক্সসেন, কেন্টো মোমোতা, কেন্টা সুকামোতোর মতো প্লেয়ারদের বিরুদ্ধে খেলাটা আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। ২০২০ সালে ভিক্টরের বিরুদ্ধে খেলার পর এই দু’বছরে অনেক বদল হয়েছে আমার খেলায়। সবয়েচে বড় কথা হল, ব্যাডমিন্টনের প্রতি আমার দর্শনটাই বদলে গিয়েছে। উল্টো দিকে যত বড় প্লেয়ারই থাকুক না কেন, আমি তাকে হারানোর চেষ্টাই করি।’

চোইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম গেমটা ১৪-২১ হেরেছিলেন তিনি। কোরিয়ান শাটলারের গতির সঙ্গে মানাতে পারছিলেন না। দ্বিতীয় গেমে ফিরে আসেন লক্ষ্য। ২১-১৬ জেতেন। তৃতীয় গেমটা আরও কঠিন ছিল। চোই পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছিলেন। শুরুতে পিছিয়েও পড়েছিলেন লক্ষ্য। সেখান থেকে দারুণ ভাবে ফিরে ২১-১৮ জিতে নেন গেমটা। কোরিয়া ওপেনে লক্ষ্য তাঁর প্রথম ম্যাচ জিতলেও এইচএস প্রণয় আবার মালয়েশিয়ার চেম জুন উইয়ের কাছে স্ট্রেট গেমে হেরে যান। প্রথম গেমে তাও ১৭-২১ লড়াই করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় গেমে ৭-২১-এ আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − 4 =