হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে আজ ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ এটিকে মোহনবাগানের

কঠিন তবে অসম্ভব নয়, স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখলেন জুয়ান ফেরান্দো। আজ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে হায়দরাবাদ এফসির মুখোমুখি হবে এটিকে মোহনবাগান। যেখানে সবুজ-মেরুন শিবিরকে ফাইনালে যেতে গেলে তিন গোলে জিততেই হবে। সবুজ-মেরুন সমর্থকরা বুঝে গিয়েছেন, দলের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো বেশ কঠিন। স্প্যানিশ কোচও তাই মনে করছেন। তবে হতাশায় আবার ভেঙেও পড়ছেন না। তাঁর ধারণা, সকলে যদি সম্মিলিতভাবে প্রয়াস চালায় তাহলে সাফল্য আসতে বাধ্য।

আজ এটিকে মোহনবাগানকে শুধু তিন গোল দিলে চলবে না, নিজেদের গোল অরক্ষিত রাখতে হবে। একটা গোল হজম করা মানে জয়ের ব্যবধান রাখতে হবে কমপক্ষে চার গোলের। সতি্যই কি সম্ভব? প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ফেরান্দো বলেন, “কঠিন ঠিকই, তবে অসম্ভব নয়। আসলে পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। হায়দরাবাদের দিকে যেমন নজর দিতে হবে, পাশাপাশি আমাদের পরিকল্পনার উপর জোর দেওয়াও জরুরি। সোজা কথা, জিততে গেলে ফোকাস নড়ানো চলবে না।”

দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়াতে গেলে রয় কৃষ্ণদের মনে আস্থা ধরে রাখা জরুরি বলে জানিয়েছেন ফেরান্দো। ৯০ মিনিটের মধ্যে তিন গোল করার মানসিকতা নিয়ে ঝাঁপাতে হবে। কিন্তু গত ম্যাচে সেট পিসে মার খেয়ে গিয়েছে দল। কর্নার থেকে দু’টো গোল হয়েছিল। তাছাড়া হায়দরাবাদ উইং ধরে খেলে বাজিমাত করে যায়। সেখানে এটিকে মোহনবাগান ডিফেন্ডারদের দেখা যায়নি প্রতিপক্ষের উইং প্লে আটকানোর কৌশল প্রয়োগ করতে। ফেরান্দো শুধু এটুকু বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে অবশ্যই তাঁরা আজ নামবেন। সেইসব ভাবনা নিয়ে ম্যাচের আগে বিস্তারিত আলোচনা করতে নারাজ। কিন্তু কোন কোন জায়গায় দলের উন্নতি করার প্রয়োজন রয়েছে?

“অনেক জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল মানসিকতা। এক গোলে এগিয়ে থাকলে দু’গোলের জন্য ঝাঁপাতে হবে। আবার ২-০ হলে তিন গোলের দিকে এগনো দরকার। এই মানসিকতা না আনতে পারলে হবে না।” স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ফেরান্দো। প্রশ্ন হল, হায়দরাবাদের সঙ্গে প্রথম লেগের ম‌্যাচে ডিফেন্সের হাল এমন হল কেন? শুধুই ক্লান্তি বা ফোকাস নড়ে যাওয়া কি কারণ? জবাবে স্প্যানিশ কোচ বলেন, “কিছু কিছু সময় খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব ধরা পড়ে। এমনটা হতেই পারে। তাই বলে সব সময় এই অজুহাত দিলে চলবে না। দলের প্রত্যেককে চিনি। জানি কে কতটা ক্লান্ত। তাছাড়া ছোটখাটো ভুলও অনেক সময় হয়। তাই প্রথম লেগের খেলায় এইসব সমস্যা দেখা দিয়েছিল।”

ডেভিড উইলিয়ামস, তিরি, হুগো বুমোস, মনবীর, প্রতে্যকেই কম বেশি চোট-আঘাতে জর্জরিত। তাই ফেরান্দো জোর দিয়ে বলতে পারছেন না কাকে কার বদলে খেলাবেন। তবে হায়দরাবাদ কোচ ম্যানুয়েল মার্কেজ বুঝে গিয়েছেন, তাঁদের প্রচন্ড চাপ সামলাতে হবে। কিন্তু ফাইনালে ওঠার পথ তাঁদের সামনে যে প্রশস্ত তাও ভুলছেন না তিনি।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × three =