শেষ পর্যন্ত লড়েও বাহরিনের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে হার ভারতের

বাহরিনের বিরুদ্ধে নিজেদের রেকর্ড উলটোদিকে ঘোরাতে পারলেন না ভারতীয় ফুটবলাররা। এর আগে বাহরিনের বিরুদ্ধে ছ’টি ম্যাচ খেলেছিল ভারত। যার মধ্যে পাঁচবার হেরে গিয়ে একবারই মাত্র ড্র করতে পেরেছিলেন ভারতীয় ফুটবলাররা। ফলে পরিসংখ্যানগত দিক থেকে এদিন বাহরিনের মাঠে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ শুরুর আগে পিছিয়েই ছিলেন সন্দেশ জিঙ্ঘানরা। তবুও ম্যাচে কিন্তু সেভাবে কোনও প্রভাব পড়েনি। শুরুতে গোল খেয়ে গেলও রাহুল ভেকের গোলে ফিরে আসে ভারতীয় দল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই ডিফেন্সের দোষ। শেষ মুহূর্তের গোলে হারতে হল গুরপ্রীতদের।

আইএসএল খেলে সরাসরি বাহরিনে যোগ দিয়েছিলেন লিস্টন কোলাসোরা। আইএসএলের ফুটবলারদের ক্ষেত্রে বরাবর যা হয় এদিনও তার অন্যথা হয়নি। লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিংরা আইএসএলে দাপিয়ে খেললেও যে মুহূর্তে জাতীয় দলের জার্সি পরেন সব জারিজুরি শেষ। এদিন বাহরিনের বিরুদ্ধে লিস্টনের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল আইএসএলের ছায়া। ফলে ইগর স্টিমাচ এদিন লিস্টনকে পুরো ম্যাচে মাঠেও রাখেননি। তবে শুধু লিস্টনকে বদলে দেওয়া নয়। ম্যাচ চলাকালীন একাধিক ফুটবলার পরিবর্তন করেন স্টিমাচ। তাতেও জয়ের মুখ দেখা সম্ভব হয়নি।

শুরুতেই বক্সের ভিতর গোলমুখী বল হাত দিয়ে থামিয়ে বাহরিনকে পেনাল্টি উপহার দেন ভারতের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার সন্দেশ। পেনাল্টির সিদ্ধান্তে খুশি হতে না পেরে রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ড দেখেন সন্দেশ। বাহরিন অবশ্য শুরুতেই পাওয়া পেনাল্টি থেকে কোনও সুবিধে আদায় করতে পারেনি। বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পেনাল্টি শট আটকে দেন ভারতীয় গোলকিপার অধিনায়ক গুরপ্রীত সিং। গোলকিপার পেনাল্টি হয়তো সেভ করে দিলেন কিন্তু ডিফেন্সের অগোছালো ভাব আটকাবে কে?

এদিন পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন স্টিমাচ। যার মধ্যে সন্দেশ এবং রাহুল ভেকে ছাড়া বাকি তিনজন বাঙালি ডিফেন্ডার, প্রীতম, প্রণয় এবং শুভাশিস। বাহরিন যখন আক্রমণ করছিল প্রণয় ডিফেন্সে নেমে এসে পঞ্চম ডিফেন্ডার হয়ে যাচ্ছিলেন। আবার আক্রমণে যাওয়ার সময় প্রণয় অতিরিক্ত মিডফিল্ডার। তাতেও গোল আটকানো সম্ভব হয়নি। প্রীতমের দিক থেকে বক্সের মধ্যে ক্রস ভেসে এলে বাহরিনের মহম্মদ হারদান যখন ভলিতে জাল কাঁপিয়ে দিচ্ছেন আসে-পাশে তখন ভারতীয় দলের কোনও ডিফেন্ডার নেই। গোল হওয়ার ঠিক আগেই ঠিক একই জায়গা থেকে বল বারের ওপর তুলে দেন বাহরিনের হুমেইদান।

গোল খেয়ে দ্বিতীয়ার্ধে তেড়েফুঁড়ে শুরু করেন মনবীররা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিস্টন কোলাসোকে বসিয়ে নাওরেম রোশন সিংকে নামান স্টিমাচ। তবে সুহেরের জায়গায় অনিরুদ্ধ থাপা নামার সঙ্গে-সঙ্গেই গোল পায় ভারতীয় দল। লিস্টনের পরিবর্ত ফুটবলার নাওরেম রোশন সিং ক্রস রাখেন বক্সের মধ্যে। অনেকটা ওভারল্যাপ করে এসে হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান রাহুল ভেকে। এরপর আরও দুটো পরিবর্তন নেন কোচ। রহিম আলির জায়গায় অনিকেত যাদব ও দানেশ ফারুখের জায়গায় মহম্মদ ইয়াসির। ম্যাচ তখন ডাইং মোমেন্টে। ভারতীয় সমর্থকরা তখন ধরে নিয়েছেন। বাহরিনের বিরুদ্ধে প্রথম ফিফা ফ্রেন্ডলি ড্র রাখতে চলেছে ভারতীয় দল। ঠিক সেই সময়ই গোল খেলেন সন্দেশরা। শুভাশিস বোসের দিক থেকে ক্রস এল ভারতীয় ডিফেন্সে। প্রথমবার গোল নষ্ট করলেও এবার আর ভুল করেননি মাধি হুমেইদান। ফাঁকায় দাঁড়িয়ে দেখেশুনে গোল করে গেলেন। তাকে মার্ক করার জন্যও সামনে কোনও ভারতীয় ডিফেন্ডার নেই!

বাহারিনের বিরুদ্ধে হারলেও এবার বেলারুশের বিরুদ্ধে ভাল ফল করতে মরিয়া ভারতীয় দল। আগামী শনিবার ইউরোপের এই দেশটির বিরুদ্ধে খেলতে নামবেন গুরপ্রীত সিং সিন্ধুরা। বেলারুশ ফিফা ক্রমতালিকায় বাহারিনের থেকে পিছিয়ে থাকলেও ইউরোপের দেশগুলির বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। সুতরাং প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে বাহারিনের থেকেও শক্তিশালী হতে চলেছে এই দেশটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − 4 =