মুর্শিদাবাদে দুর্গাপূজার মণ্ডপ উদ্বোধনে সীমান্ত নিরাপত্তা ও একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

মুর্শিদাবাদ : বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক লালবাগে এক দুর্গাপূজা মণ্ডপের শুভ উদ্বোধন করে রাজ্যের উন্নয়ন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি দাবি করেন যে, বিগত কিছু সময়ে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পদক্ষেপে এই অঞ্চল থেকে গবাদি পশু পাচার এবং মাদকের অবৈধ কারবার প্রায় সম্পূর্ণভাবে দমন করা সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য নতুন আইটিআই কলেজ, প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র, কলেজে প্রাতঃকালীন বিভাগ চালু এবং হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধির মতো একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা প্রকাশ্যে জানান তিনি। সীমান্ত এলাকায় বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং রাজ্য পুলিশ পূর্ণ সমন্বয় রেখে কাজ করছে, যা জেলায় কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পাচার হতে দেবে না।

বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী লালবাগে অবস্থিত ‘বুধসপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি’-র পূজার আনুষ্ঠানিক প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফিতে কেটে শুভ উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ভাষায় জানান যে, এই নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির পূর্ণ দায়িত্ব তাঁর নিজের। মঞ্চে উপস্থিত শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছ থেকে এলাকার বর্তমান পরিকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর তিনি জেলা শাসককে অবিলম্বে প্রস্তাবিত নতুন আইটিআই কলেজের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করে বরাদ্দ করার নির্দেশ দেন।

শিক্ষার প্রসারে জোর দিয়ে স্থানীয় বর্তমান কলেজে ছাত্রীদের সুবিধার্থে সকালের শিফট চালু করার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, শিক্ষকের কোনো অভাব হবে না। এছাড়াও স্থানীয় হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সস্তায় ওষুধ পাওয়ার জন্য দ্রুত ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র’ খোলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দেন যে, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের রূপায়ণ সম্পন্ন করতে হবে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এই ধরণের লোকহিতকর কাজে অর্থের কোনো অভাব হবে না।

সীমান্তবর্তী এই ঐতিহাসিক জেলার পর্যটন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমগ্র মুর্শিদাবাদকে সম্পূর্ণ ‘মাদকমুক্ত’ করাই তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। অঞ্চলটিকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে পারলে এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ দ্রুত গতিতে ঘটবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ বর্তমানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। বক্তব্যের শেষলগ্নে স্থানীয় অধিবাসীদের সামাজিক সচেতনতার পাঠ দিয়ে তিনি বাল্যবিবাহের সামাজিক ব্যাধি ও কুপ্রথা বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে নির্ধারিত বয়সের পূর্বে বিবাহ দেওয়া একটি মারাত্মক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 2 =