ঝাড়গ্রাম : ঝাড়গ্রামের নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কঠোর সমালোচনা করলেন বিজেপি নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ঝাড়গ্রামের নির্বাচনী জনসভা থেকে জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা এই নিষ্ঠুর তৃণমূল সরকারকে ১৫ বছর দিয়েছেন। ১৫ বছর কোনও সামান্য সময় নয়। এই ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার আপনাদের কী দিয়েছে, আদিবাসী এলাকাগুলো কী পেয়েছে? শিক্ষা নেই, আয় নেই, ওষুধ নেই, সেচও নেই, এখানকার সবকিছুই এক শোচনীয় অবস্থায় আছে।”
নরেন্দ্র মোদী বলেন, “বাড়ি বানাতে হলে তৃণমূলের সিন্ডিকেটের ওপর নির্ভর করতে হয়। তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়করা আপনার সমস্যা নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। তাঁরা নিজেদের সিন্দুক ভরতে ব্যস্ত। বাংলায় আদিবাসীদের হাজার হাজার একর জমি তৃণমূলের গুন্ডারা দখল করে নিয়েছে। মানুষজন আমাকে বলে, এখানে একবার বিদ্যুৎ গেলে তা ফিরতে দিন লেগে যায়। কখনও কখনও তো একেবারেই ফেরে না। বিদ্যুৎ আসে না, কিন্তু বিদ্যুতের মোটা বিল ঠিকই চলে আসে। আপনারা এখানে অন্ধকারে, আর তৃণমূল নেতাদের বাংলো আর গাড়িগুলো ঝলমল করছে। সেই কারণেই মোদী প্রতিজ্ঞা করেছে: যারা এখানকার কয়লা লুট করে, যারা আপনাদের অন্ধকারে রাখে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এই লুটেরাদের এক এক করে খুঁজে বের করে জবাবদিহি করানো হবে।”
মোদী বলেন, “আপনারা আমাকে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন, এবার এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বানান। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, এখানেও বিদ্যুৎ পর্যাপ্ত থাকবে, এবং আপনারা বিদ্যুৎ বিল থেকেও মুক্ত হবেন। একদিকে তৃণমূল বিদ্যুৎ ব্যবসা করে টাকা কামাতে ব্যস্ত, আর অন্যদিকে মোদী আপনাদের বিদ্যুৎ বিল শূন্য করতে ব্যস্ত। মোদী আপনাদের বিল শূন্য করার প্রকল্পটি চালু করেছে। এটি হলো পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা।”
মোদী আরও বলেন, “বিজেপি ২০২৯ সাল থেকে মহিলাদের সংরক্ষণের সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নারী-বিরোধী তৃণমূল সংসদে এর বিরোধিতা করেছিল। বাংলার ৩৩ শতাংশ মহিলা যাতে বিধায়ক ও সাংসদ হতে না পারেন, সেজন্য তৃণমূল সব ধরনের ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিল। এখন, বাংলার মহিলাদের এই পাপের জন্য তৃণমূলকে শাস্তি দিতেই হবে।”

