ব্যাটাররা রান তুলেছিলেন পাহাড়প্রমাণ। কিন্তু সেই রান আগলে রাখার দায়িত্ব যাঁদের, সেই বোলাররাই ডোবালেন ভারতকে। ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান তুলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারল না ভারত। উল্টে ১৮.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান তুলে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ক্যারিবিয়ানরা। টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নজির গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর এই হারের পর ভারতীয় বোলিংয়ের দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের নায়ক শাই হোপ। শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের আক্রমণ করে খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে চার-ছক্কার বন্যা সামলানোর কোনও উপায় খুঁজে পাননি ভারতীয় বোলাররা। মাত্র ৪২ বলেই ৯০ রানে পৌঁছে যান হোপ। শেষ পর্যন্ত শতরান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তোলেন রোমারিও শেফার্ড। মাত্র ১৩ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ম্যাচের শেষ দিকের সমীকরণ একেবারে সহজ করে দেন তিনি।
ভারতের বোলিং ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ অক্ষর পটেল, কুলদীপ যাদব ও অর্শদীপ সিংয়ের পারফরম্যান্স। অক্ষর ৩ ওভার বল করে ৫১ রান দিয়েছেন, অথচ কোনও উইকেট পাননি। কুলদীপের ৪ ওভারে উঠেছে ৫৩ রান। তাঁর এক ওভারেই ২৪ রান তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। অর্শদীপও ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। তাঁর এক ওভারে ২৪ রান তুলে শেফার্ড কার্যত ভারতের জয়ের আশা শেষ করে দেন। বোলিংয়ে না ছিল ধার, না ছিল রান আটকানোর পরিকল্পনা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লাইন-লেংথ ধরে রাখতেও ব্যর্থ হন ভারতীয় বোলাররা।
প্রশ্ন উঠছে, ২৪৯ রান তুলেও কেন হারতে হল ভারতকে? টি-টোয়েন্টিতে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে প্রতিপক্ষের উপর নিয়মিত চাপ তৈরি করা জরুরি। কিন্তু হোপকে শুরু থেকে আটকে রাখতে পারেনি ভারত। দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার বদলে বাউন্ডারি বিলিয়ে দিয়েছে তারা। মাঝের ওভারগুলিতে রান আটকানো যায়নি, শেষের ওভারগুলিতেও দেখা যায়নি কার্যকর পরিকল্পনা। ফলে ব্যাটারদের পরিশ্রম মাঠেই পড়ে রইল।
এই হার স্পষ্ট করে দিল, শুধু বড় রান করলেই ম্যাচ জেতা যায় না। বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ, উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এবং চাপের মুখে সঠিক পরিকল্পনাও সমান জরুরি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সেই তিন ক্ষেত্রেই ব্যর্থ ভারত।

