আইএফএ শিল্ড পেশাদার প্রতিযোগিতা নয়, বিস্ফোরক হাবাস

আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের কাছে হেরে ট্রফি হাতছাড়া। সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭ গোল দেওয়ার পরও ফাইনালে ভরাডুবি। বৃহস্পতিবার মোহনবাগানের কাছে ডার্বি হারের পর লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে প্রশ্ন উঠেছে কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের স্ট্র‍্যাটেজি নিয়ে। দলের সেরা ডিফেন্ডার আনোয়ার আলিকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সম্ভবত এএফসির কথা ভেবেই ঝুঁকি নিতে চাননি হাবাস। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনও এড়িয়ে গিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল হেড স্যার। এবার আইএফএ শিল্ড নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোচ উগরে দিলেন তিনি। শিল্ড আয়োজন, সূচি, ব্যবস্থাপনা থেকে রেফারিং, আইএফএ-র পেশাদারিত্ব সব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন স্প্যানিশ কোচ। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, তিনি ও তাঁর দলের সঙ্গে সার্কাসের জন্তুর মতো ব্যবহার হতে দিতে পারেন না।

হাবাস লেখেন, ‘আমি একজন পেশাদার। বিশ্বের অন্য কোচেদের মতো কখনও হারি, কখনও জিতি। কিন্তু আমার নীতিতে কখনও সার্কাসের পশুর মতো আচরণ সহ্য করব না। এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরকম মনে হয়েছে। সূচি বানানো, মাঠের পরিস্থিতি, রেফারিং থেকে প্রতিপক্ষ নির্বাচন, সব জায়গায় একই অবস্থা। এটাকে কোনও ভাবেই পেশাদার প্রতিযোগিতা বলা যায় না। পেশাদারদের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে। আমি এই ব্যাপারে কোনও ভাবে আপস করতে রাজি নই।’

নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণাত্মক ফুটবল নজর কেড়েছিল। কিন্তু ডার্বিতে সেই ছন্দের ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। আগের ম্যাচে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া দলের একাধিক ফুটবলারকে প্রথম একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন হাবাস। এডমুন্ড লালরিন্ডিকার উপরেও প্রত্যাশা ছিল প্রচুর। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন তিনি। সেই স্মৃতি থেকেই হয়তো এদিনও তাঁর উপর বাড়তি ভরসা রেখেছিলেন হাবাস। তার উপর ব্রাজিল ও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেরার পর এডমুন্ডের আত্মবিশ্বাসও ছিল তুঙ্গে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা ডেভিড লালসাঙ্গহাকে প্রথম একাদশে না রেখে এডমুন্ডকে খেলানোর সিদ্ধান্ত কাজে এল না। মাঠে কার্যত নিষ্প্রভ দেখাল তাঁকে।

জাতীয় দলের হয়ে খেলে ফেরার পরেও আনোয়ার আলিদের প্রথম থেকে মাঠে নামানো হল না। বড় ম্যাচের মতো গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে এমন সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ, ম্যাচের পরতে পরতে স্পষ্ট হয়ে গেল, ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ সামলানোর ক্ষেত্রে আনোয়ারের অনুপস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 3 =