পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিত অপরাধের নথি সংগ্রহ ইডির, পিএমএলএ-র অধীনে তদন্তের প্রস্তুতি

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিত অপরাধ সংক্রান্ত একাধিক মামলার তথ্য পুলিশের থেকে সংগ্রহ করতে শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে যে সমস্ত মামলায় আর্থিক তছরুপের তদন্ত সম্ভব, মূলত সেগুলির ওপরই নজর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যে পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মেয়াদে বিভিন্ন থানায় সংগঠিত অপরাধের একাধিক মামলা রুজু হলেও, সেগুলির তদন্তে আশানুরূপ গতি আসেনি।

সূত্রের দাবি, রাজ্যস্তরে তদন্ত ও পদক্ষেপ থমকে থাকার কারণে এই সমস্ত অপরাধের নেপথ্যে থাকা বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং তহবিলের আসল উৎসের হদিস পাওয়া যায়নি। নবান্নের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অতীতে বেশ কিছু মামলায় ইডি তথ্য চাইলেও রাজ্য পুলিশের তরফে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার ইডির চাওয়া সমস্ত নথিপত্র ও তথ্য শেয়ার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংস্থা পিএমএলএ আইনের অধীনে নিজস্ব তদন্ত শুরু করতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ইডি সংগঠিত অপরাধের এমন কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে, যেখানে মানি লন্ডারিং বা বেআইনি অর্থ লেনদেনের সম্ভাবনা প্রবল। এর মধ্যে প্রধান হলো— বেআইনি অস্ত্র পাচার, মানব পাচার, মাদক চোরাচালান এবং সাইবার অপরাধ। এই সমস্ত অপরাধসমূহ পিএমএলএ আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধের আওতায় পড়ে। যেসব ক্ষেত্রে থানায় এফআইআর হলেও পরবর্তীকালে তদন্ত থমকে গিয়েছে, ইডি এখন বিশেষ করে সেই ফাইলগুলিই খতিয়ে দেখছে।

সরকারি ওই আধিকারিকের কথায়, এই ধরনের সংগঠিত অপরাধে বিপুল অঙ্কের কালো টাকার লেনদেন ঘটে এবং তা আড়াল করতে বহু ক্ষেত্রে ‘হুন্ডি’ বা ‘হাওয়ালা’-র মতো বেআইনি মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। এতদিন রাজ্যস্তরের তদন্তে গতি না থাকায় এমন বহু মামলা ইডির নজরদারির বাইরে থেকে গিয়েছিল।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিজেরাও এই মামলাগুলির অগ্রগতি ঘটাবে এবং তার সমান্তরাল যাবতীয় নথি ইডির হাতে তুলে দেবে। নথিপত্র মূল্যায়নের পর ইডি প্রয়োজন বুঝে আর্থিক তছরুপের দিকটি নিয়ে পৃথক মামলা রুজু করবে।

রাজ্য সরকারের আধিকারিকের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সংগঠিত অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যে আরও সুদৃঢ় সমন্বয় গড়ে তোলা। উল্লেখ্য, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা পাচার এবং গরু পাচার সহ একাধিক হাইপ্রোফাইল মামলার তদন্ত চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + five =