কলকাতা : তিনটি পৃথক ফৌজদারি মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া গ্রেফতারির ওপর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ মঙ্গলবার ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই তিনটি এফআইআর খারিজ করার আবেদনে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার জন্য আগামী ২৫ আগস্টের দিন ধার্য করেছে আদালত।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া এই অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা আগামী ৩১ আগস্ট অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত (যেটি আগে হবে) বহাল থাকবে। উল্লেখ্য, এই তিনটি এফআইআর-এর মধ্যে একটি গত ২৭ মে ভবানীপুর থানায় এবং বাকি দুটি ১৬ জুন কালীতলা ও বিষ্ণুপুর থানায় রুজু করা হয়েছিল।
শুনানি চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতকে জানান, সাংসদ তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। যুক্তি হিসেবে তিনি ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৩টি এফআইআর হাইকোর্ট কর্তৃক খারিজ করার প্রসঙ্গটিও আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু এফআইআর বাতিল এবং অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল রাখার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, কোনো এফআইআর-এ যদি প্রথম দর্শনে গুরুতর বা ধর্তব্য অপরাধের প্রমাণ মেলে, তবে প্রাথমিক পর্যায়েই তা খারিজ করা যায় না। তাছাড়া এই মামলার তদন্ত এখনও একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
মামলার মূল অভিযোগকারী অভিজিৎ দাসের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অত্যন্ত প্রভাবশালী’ বলে বর্ণনা করে তাঁর অন্তর্বর্তী নিরাপত্তার বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ না করা হলে তিনি সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের মক্কেলের জন্য পুলিশি সুরক্ষার আবেদনও জানান।
এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি এখনও এতটাই প্রভাবশালী হন, তবে আমতলায় অবস্থিত তাঁর সাংসদ কার্যালয় ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হলো কীভাবে?
আদালত আরও মনে করিয়ে দেয়, গত রবিবার বিশেষ শুনানি ডেকে হাইকোর্টই সেই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, এই ঘটনাপ্রবাহ অভিযোগকারীর সেই দাবিকে সমর্থন করে না যে সাংসদ তদন্ত প্রভাবিত করার মতো পরিস্থিতিতে আছেন।
শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, ডায়মন্ড হারবার রোডের যে ভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়টি ছিল, সেটির কোনো অনুমোদিত নকশা ছিল না এবং উক্ত সম্পত্তির মালিকানাও তৃণমূল সাংসদের নামে ছিল না।
এর আগে গত ৬ আগস্টের শুনানিতে রাজ্য সরকারের পেশ করা তথ্যের কথা উল্লেখ করে আদালত জানায়, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৬টি এফআইআর বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই বিচারপতি ভট্টাচার্য তিনটি এফআইআর-এর ক্ষেত্রে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো।

