লাল-হলুদ পতাকায় টুটু বোসকে শ্রদ্ধা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের 

ঋতিকা চক্রবর্তী: লড়াইটা কেবল ৯০ মিনিটের, ডার্বি কেবল ওই সবুজ ঘাসের মাঠেই হবে। মাঠের বাইরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধ থাকবে। বুধবার প্রয়াত মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বোসকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যেন এই বার্তাই দিল ইস্টবেঙ্গল। মঙ্গলবার ১৩ মে গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন টুটু বোস। তাঁর প্রয়াণে গোটা ময়দান জুড়ে শোকের ছায়া।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মোহনবাগান ক্লাবে টুটু বসুর অপার্থিব দেহ শায়িত রাখা হয়। শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে তারকদের ভিড়। মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুতে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার। পুষ্পস্তবক ও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের লাল-হলুদ পতাকা দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন তিনি। মৃত্যুর পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লাল-হলুদ পতাকায় শায়িত টুটু বোস। পাশাপাশি এদিন ইমামি ইস্টবেঙ্গল এফসির সোশ্যাল মিডিয়ায় পেজ থেকেও টুটু বোসকে সম্মান জানানো হয়। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পোস্টে লেখা, “প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমাদের পরিচয়, কিন্তু আমাদের সম্পর্ক সেগুলোকে অতিক্রম করে যায়। বছরের পর বছর ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, প্রশংসা এবং ময়দানের মজাদার খুনসুটি আমাদের একত্রিত করেছিল। শান্তিতে থাকুন, টুটু দা। আপনাকে ছাড়া কলকাতা ময়দান আর আগের মতো থাকবে না।”
শ্রদ্ধা জানিয়ে ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, “টুটু বাবু নিজেই একজন অবিস্মরণীয় চরিত্র। ওঁর প্রয়াণে এই ক্লাবের যে অনেক বড় ক্ষতি হল, তা সন্দেহাতীত। ক্ষতি হল কলকাতা ময়দানেরও। আমি চাইব, এমন চরিত্র আগামীদিনে কলকাতা ময়দানে আরও আসুক। এটাই আমার একমাত্র কাম্য। ওঁর বিদেহী আত্মা শান্তিতে থাকুক। যে কোনও মানুষের চলে যাওয়াটাই যথেষ্ট ক্ষতিকর এবং দুঃখজনক।”
তিনি আরও বলেন, “টুটু বাবু এমন একজন চরিত্র ছিলেন, যাঁকে বোঝা খুব মুশকিল ছিল। উনি কোন সময় যে পজিটিভ থাকবেন, আর কোন সময় নেগেটিভ, তা সহজে আঁচ করা যেত না। ওঁর ভিতরে অনেক শব্দ উচ্চারণ হত, কিন্তু হৃদয়টা আলাদা কথা বলত। সর্বোপরি, ওঁর একটা বিশাল বড় মন ছিল।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × four =