বিরাট ঝড়ে উড়ে গেল কেকেআর, প্লে-অফের পথে ঘনাল অন্ধকার

প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে কেকেআরের জয় ছাড়া কোনও বিকল্প ছিল না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিংয়ের মন্থর গতিই শেষ পর্যন্ত কাল হল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। টানা চার ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হল অজিঙ্ক রাহানের দলকে। বিরাট কোহলির অনবদ্য শতরানের সামনে কার্যত অসহায় দেখাল কেকেআরকে। এই হারের ফলে প্লে-অফে ওঠার পথ আরও কঠিন হয়ে গেল গতবারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য।
বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে শুরু হয় ম্যাচ। দেড় ঘণ্টা দেরিতে টস হওয়ার পর রাত পৌনে ন’টা নাগাদ খেলা শুরু হয়। শুরুটা যদিও বেশ আক্রমণাত্মকই করেছিল কেকেআর। ফিন অ্যালেন কয়েকটি ঝোড়ো শট খেলে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। মাত্র আট বলে ১৮ রান করে তিনি ফিরে গেলেও শুরুতে দলকে গতি এনে দিয়েছিলেন। তবে অন্য প্রান্তে অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের ব্যাটিংয়ে সেই আগ্রাসন দেখা যায়নি। ধীরে রান তোলার ফলে মাঝের ওভারগুলোতে চাপ বাড়তে থাকে।
ক্যামেরন গ্রিনও প্রথমদিকে রান তুলতে বেশ সমস্যায় পড়েন। অনেকক্ষণ ক্রিজে থেকেও বড় শট খেলতে পারেননি তিনি। পরে কিছুটা হাত খুললেও ইনিংসকে খুব বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। অঙ্গকৃশ রঘুবংশী অবশ্য দায়িত্ব নিয়ে লড়াই চালান। দুরন্ত ৭১ রানের ইনিংস খেলে তিনি দলকে লড়াইয়ের জায়গায় পৌঁছে দেন। শেষদিকে রিঙ্কু সিং কিছুটা চেষ্টা করলেও তাঁর ইনিংসে কাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণ ছিল না। ২৯ বলে ৪৯ রান করেও ম্যাচের মোড় ঘোরাতে পারেননি তিনি।
সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় শেষ পাঁচ ওভারে। হাতে পর্যাপ্ত উইকেট থাকা সত্ত্বেও কেকেআর মাত্র ৫১ রান তোলে। এই ধীর গতির ব্যাটিংয়ের কারণেই স্কোর দুশোর গণ্ডি পেরোয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৯২ রানে থামে নাইটদের ইনিংস। টি-টোয়েন্টির হিসেবে এই রান মোটেও নিরাপদ ছিল না।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখায় আরসিবিকে। যদিও জেকব বেথেল দ্রুত ফিরে যান, কিন্তু এরপর ম্যাচ পুরোপুরি বিরাট কোহলির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দেবদত্ত পাড়িক্কলকে সঙ্গে নিয়ে দুরন্ত পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন তিনি। একদিকে অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে নিখুঁত শট নির্বাচন— সব মিলিয়ে যেন পুরনো বিরাটকেই দেখা গেল।
কোহলির ব্যাট থেকে আসে আরও একটি আইপিএল শতরান। কেরিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসেও তাঁর ক্ষুধা যে এতটুকু কমেনি, তা আবার প্রমাণ করে দিলেন তিনি। প্রায় ১৭৩ স্ট্রাইক রেটে খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসই কার্যত আরসিবির প্লে-অফের রাস্তা অনেকটাই নিশ্চিত করে দিল।
অন্যদিকে কেকেআরের জন্য এই হার শুধু দু’পয়েন্ট হারানো নয়, আত্মবিশ্বাসেও বড় ধাক্কা। টানা জয়ের ধারা থেমে যাওয়ার পাশাপাশি এখন প্লে-অফে পৌঁছতে হলে বাকি ম্যাচগুলিতে প্রায় নিখুঁত ক্রিকেট খেলতেই হবে রাহানেদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 5 =