‘যত খুশি রণনীতি তৈরি করো, খেলা হবে এবং জোরদার খেলা হবে’: বিষ্ণুপুর থেকে বিজেপিকে তোপ মমতার

বিষ্ণুপুর : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের ময়দান থেকে মঙ্গলবার বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে আয়োজিত এক জনসভা থেকে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “বিপক্ষ যত খুশি রণনীতি তৈরি করুক না কেন, নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত। এই নির্বাচনেও ‘খেলা হবে’ এবং সেই খেলা হবে অত্যন্ত জোরদার।”

বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর সরকারের আমলে রাজ্যে প্রভূত উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ব্যালট বক্সেই তার যোগ্য জবাব দেবেন। তিনি বলেন, “বাংলায় বর্তমানে ১০৫টি জনকল্যাণমুখী প্রকল্প চলছে, যার অনেকগুলোই অন্য কোনও রাজ্যে নেই।”

এদিনের সভা থেকে ‘যুবসাথী’ নামক নতুন প্রকল্পের উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি কোনও প্রকার ভিক্ষা বা নিছক ভাতা নয়; বরং যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে এটি একটি আর্থিক সহযোগিতা। রাজ্য সরকার তরুণ প্রজন্মকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে এদিন ফের সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ৪২ লক্ষের মধ্যে মাত্র ২২ লক্ষ নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বলেও জানান। বিজেপিকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মানুষের নাম কেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে? তবে কি তাঁদের দেশছাড়া করার চক্রান্ত চলছে?”

ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা হিন্দু রাষ্ট্রের কথা বলেন, তাঁদের আগে জানানো উচিত যে তাঁরা হিন্দুধর্মের মূল নীতিগুলি সম্পর্কে কতটা অবগত।

নিজের ভাষণে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও স্মরণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই অঞ্চল শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সংগীতের পীঠস্থান। এখানকার পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে পানীয় জল ও আলোর মতো পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিষ্ণুপুরের আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা এবং গড়বেতাতেও নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। প্রতিটি সভা থেকেই তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নীতি ও নির্বাচন পরিচালনার কৌশলের কড়া সমালোচনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six + four =