বারাসাতে ভোট বেড়েছে বিজেপির,  তৃণমূল জিতেছে পরপর তিন বার, এবার ফুটবে কি! ঘাসফুল না পদ্ম?

বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চতুর্থ বারের জন্য জয় প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছেন তৃণমূলিরা। তবে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের এই আবেগে জল ঢেলে দিয়েছে বিগত দিনের ভোটের ফলাফলের পরিসংখ্যান। বারাসাতের এবাদের ডাকাবুকো বিজেপি প্রার্থী স্বপন মজুমদার। তাঁর পাল্টা দাবি, ‘কাকলি ঘোষ দস্তিদার ১৫ বছর ধরে চুরি করেছে, কাটমানি খেয়েছে। নিজের সাংসদ তহবিলের টাকা হাতিয়েছেন বারাসাতের সাংসদ। মানুষ সেটা দেখেছে, বুঝেছে। ফলে আমার প্রচার ও জেতাটা সহজ হবে।’
বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্যের রেশ টেনেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের দাবি, বারাসাত কেন্দ্র থেকে কাকলির জয় যতটা সহজ মনে করেছে ঘাসফুল শিবির ততটা সহজ হবে না। কারণ বারাসাত লোকসভা এলাকার তৃণমূলের অন্দরে কোন্দল ছাই চআপা আগুনের মতো ধিকিধিকি জ্বলছে। সাংসদ হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও, বারাসাত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে কাকলিকে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। সাংসদ হিসেবে তার দক্ষতা থাকলেও দলের সভাপতি হিসেবে তার সাংগঠনিক দক্ষতা তেমন জোরদার নয়। ফলে দলীয় নেতা কর্মীদের কাছে ব্যক্তি কাকলির গ্রহণ যোগ্যতা প্রশ্ন চিহ্নের সামনে আছে। পাশাপাশি পরিসংখ্যান বলছে, বারাসাত লোকসভায় বিজেপি ভোট সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। ২০০৪ সালে বারাসাত কেন্দ্রে বিজেপি কোন প্রার্থী দেয়নি। সেবার বারাসাত থেকে সাংসদ হন বাম প্রার্থী সুব্রত বসু। ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদার ৪২.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সেবারই প্রথম বারাসাত লোকসভার বিজেপি প্রার্থী হন ব্রতীন সেনগুপ্ত। তিনি ৪.৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে আসে। দ্বিতীয় হয়ে যায় বামেরা। ২০১৪-র লোকসভায় ৩৪.৭৩ শতাংশ ভোট পেয়ে আবার বারাসাতের সাংসদ হন কাকলি। ওই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী জুনিয়র পিসি সরকার ১৯.৬১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানেই থাকেন। সেবার বিজেপি ভোট বৃদ্ধি পায় প্রায় ১৫ শতাংশের বেশি। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে ৪৬.৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বারাসাত লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ের হ্যাটট্রিক করেন ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেবার বিজেপি প্রার্থী হন মৃণালকান্তি দেবনাথ। তিনি ৩৮.৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বামেদের সরিয়ে দ্বিতীয় স্থানে চলে আসেন। ভোট বৃদ্ধি পায় প্রায় ১৯ শতাংশ। বাম প্রার্থী হরিপদ বিশ্বাস ৮.৮৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে আসেন। যে ভাবে ধাপে ধাপে বিজেপি ভোট শতাংশ বেড়েছে সেই ধারা বজায় থাকলে কাকলি যে বিপাকে পড়তে পারেন, তা অস্বীকার করা যায় না।
এছাড়াও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যবাসীর মধ্যে শাসক বিরোধী মনোভাব ক্রমশ বেড়েছে। বিজেপির দাবি, পাশাপাশি পদ্ম শিবিরের দিকে জনতা ঝুঁকছে। বিশেষত লোকসভা ভোটে সেই ট্রেন্ড হচ্ছে।
তার মধ্যে এবারের বিজেপি প্রার্থী বনগাঁ দক্ষিণ বিধায়ক স্বপন মজুমদার ™দ্ম শিবিরে জনপ্রিয় নেতা। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা। তাঁর দাবি, তিনি নিজে মতুয়া হওয়াতে বিগত দিনের বিজেপি প্রার্থীদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে আছেন। ফলে বিজেপি ও স্বপন মজুমদারের বিশ্বাস, এবার বারাসাতে ফুটবে পদ্মই।
তৃণমূল ও বিজেপি উভয় প্রার্থীই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। পরিসংখ্যান ও বাস্তব পরিস্থিতি সবটাই দেখে রাজনৈতিক মহলের দাবি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বারাসাত কেন্দ্র নিয়ে। কেউই সহজে জয় পাবেন না। ফলে বারাসাত লোকসভা কেন্দ্র ক্রমশই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হয়ে উঠছে। এখন দেখার বারাসাত লোকসভায় ঘাসফুল ফোঁটে, নাকি পদ্ম। তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে নির্বাচনী ফল ঘোষণা পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *