জেন-জি-র কাছে পৌঁছতে বিজেপির নতুন কৌশল, নজরে ১৪ থেকে ২২ বছরের তরুণরা

নয়াদিল্লি : জেন-জি-র মধ্যে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে নতুন কৌশল নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। একতরফা রাজনৈতিক প্রচারের পরিবর্তে এবার ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও রেডিটের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বেশি ইন্টার্যাক্টিভ যোগাযোগের পাশাপাশি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচিং প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পরিকল্পনা করেছে দল।

নিট পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক এবং পরবর্তী সময়ে পড়ুয়াদের আন্দোলনকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ১৪ থেকে ২২ বছর বয়সি তরুণদের কাছে পৌঁছনোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে সব রাজ্যের সংগঠনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সারা বছর ধরেই এই কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

দলীয় সূত্রের খবর, মূলত দু’টি স্তরে এই কর্মসূচি চালানো হবে। প্রথমত, ডিজিটাল আউটরিচ। ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও রেডিটের মতো প্ল্যাটফর্মে তরুণদের ভাষা ও পছন্দের ধরন অনুযায়ী যোগাযোগ করা হবে। দীর্ঘ লেখার পরিবর্তে রিল, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও এবং ভিজ্যুয়াল কনটেন্টে জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি তরুণদের মতামত ও পরামর্শ জানতে দ্বিমুখী যোগাযোগের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দ্বিতীয়ত, সরাসরি যোগাযোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, সংগঠনের পদাধিকারী ও কর্মীরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কোচিং প্রতিষ্ঠান এবং স্পোর্টস ক্লাবে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার আয়োজন করা হবে। এই আলোচনাকে অরাজনৈতিক রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচিতে দলীয় পতাকা বা ব্যানার ব্যবহার করা হবে না।

এমনকি এই কর্মসূচি থেকে সংবাদমাধ্যমকেও দূরে রাখা হবে। আলোচনা শেষে কোনও প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়া হবে না। তবে কোনও পড়ুয়া নিজের উদ্যোগে কথোপকথন রেকর্ড করলে তাতে বাধা দেওয়া হবে না। তরুণদের সুবিধা অনুযায়ী আলোচনার স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।

আলোচনায় পরীক্ষা, পাঠ্যক্রম, কর্মসংস্থান, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, কেরিয়ার এবং ভবিষ্যৎ-সহ তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে আসবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও পড়ুয়াদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হবে। সমস্যার জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলিকে দায়ী করার পরিবর্তে সমাধানের পথ খোঁজার উপর জোর দেওয়া হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও তরুণদের মতামত জানার চেষ্টা করা হবে।

তরুণ নেতৃত্ব তৈরিতেও জোর

সংগঠন ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে আরও বেশি তরুণ মুখকে সামনে আনার পরিকল্পনাও করেছে বিজেপি। ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার কর্মীরা প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ যুব দল গঠন করবেন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবেন।

সূত্রের খবর, বড় বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি, আইআইএম এবং গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় সাংসদদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্তরের প্রবীণ নেতাদেরও পাঠানো হবে। কোটা, পটনা, প্রয়াগরাজ, বেঙ্গালুরু, বিশাখাপত্তনম ও তিরুবনন্তপুরমের মতো বড় কোচিং হাবগুলিতেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। কারণ, শিক্ষক ও কোচিং প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক তরুণের কাছে তুলনামূলক সহজে পৌঁছনো সম্ভব বলে মনে করছে দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + 11 =