জাতীয় দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জেরে পর্তুগালের ৪১ বছর বয়সি মহাতারকাকে সাময়িকভাবে নির্বাসিত করল দেশের ফুটবল ফেডারেশন। শনিবার ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়েছে, গত ৭ অক্টোবরের ঘটনার তদন্তে রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী দিনে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ভর করছে তদন্তের ফলাফলের উপর।
পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর অপেশাদার বিভাগের সিদ্ধান্তে রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। ৭ অক্টোবরের ঘটনায় কোনও শাস্তিযোগ্য বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য। তদন্ত শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁর উপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরোধমূলক নির্বাসন কার্যকর ছিল। এরপর জরুরি ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত প্রতিরোধমূলক নির্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।
এই ঘটনার পর চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন রোনাল্ডো। তবে একই সঙ্গে পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সমালোচনাও করেন তিনি। নিজের আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও শাস্তির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। তাঁর বক্তব্য ছিল, যে নির্বাসনই আরোপ করা হোক না কেন, তিনি তা মেনে নেবেন।
রোনাল্ডোর মতো অভিজ্ঞ তারকার বিরুদ্ধে ফেডারেশনের এই পদক্ষেপ পর্তুগিজ ফুটবলে স্বাভাবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ঠিক কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফেডারেশনের বিবৃতিতে তদন্তের কথা জানানো হলেও চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন রোনাল্ডো। তাঁর কেরিয়ারের এই পর্যায়ে জাতীয় দলের সঙ্গে মতবিরোধ এবং শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কোচের সঙ্গে তাঁর বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। যদিও ফেডারেশনের বিবৃতিতে কোচের সঙ্গে মতবিরোধকে সরাসরি শাস্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তদন্তে ৭ অক্টোবরের ঘটনাক্রম এবং তার শৃঙ্খলাজনিত গুরুত্বই খতিয়ে দেখা হবে।
এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপে। রোনাল্ডোর সাময়িক নির্বাসন কত দিন স্থায়ী হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটাই দেখার। আপাতত পর্তুগালের ফুটবল মহলে অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে জাতীয় দলের তারকার এই বিতর্ক।

