২০ বছরে আইপিএল, উদযাপনের পরিকল্পনায় বিসিসিআই, মুম্বইয়ে বৈঠকে সৌরভ

ভারতীয় ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারে আইপিএল এখন শুধু একটি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা নয়, বরং ক্রিকেটের দুনিয়ায় এক বিরাট বাণিজ্যিক ও বিনোদনমূলক মঞ্চ। সেই প্রতিযোগিতাই এবার পা রাখতে চলেছে দু’দশকে। আইপিএলের ২০ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই লক্ষ্যেই আগামী ১৫ অক্টোবর মুম্বইয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন বোর্ডের কর্তারা। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের। গত মরশুমের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া, আগামী মরশুমের প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতার দুই দশক পূর্তি উদযাপনের রূপরেখা তৈরি করাই হবে বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।

আইপিএলের মতো বৃহৎ প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে গেলে একাধিক পক্ষের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। ফ্র্যাঞ্চাইজি, রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা, সম্প্রচারকারী সংস্থা এবং আয়োজকদের একসঙ্গে কাজ করতে হয়। সেই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলতে চাইছে বিসিসিআই। আগামী মরশুমে প্রতিযোগিতার পরিচালন ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে ১৫ অক্টোবরের বৈঠকে।

বোর্ড ও আইপিএলের শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্ণধার এবং প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিকদেরও আমন্ত্রণ জানানোর কথা। সেই সূত্রে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কর্ণধার শাহরুখ খানের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে চাইছে বোর্ড। কারণ, প্রতিযোগিতার প্রতিটি দলকে ঘিরে বিপুল দর্শক আগ্রহ, বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এবং নানা ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব জড়িয়ে থাকে।

এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলির মতামতও। আইপিএলের ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠ ও পিচ প্রস্তুত করা, দর্শকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি, নিরাপত্তা এবং ম্যাচ পরিচালনার বিভিন্ন ব্যবস্থা সামলাতে হয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। ফলে আয়োজনের পথে কী কী সমস্যা দেখা দেয় এবং সেগুলি কীভাবে দূর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়েরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত মরশুমে প্রতিযোগিতা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে ভুলত্রুটি বা সমস্যাগুলি সামনে এসেছিল, সেগুলির পুনরাবৃত্তি আটকাতে চাইছে বোর্ড। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্যায়ে কীভাবে আরও উন্নত ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির পরামর্শ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলির মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও মসৃণ করার উপরে জোর দেওয়া হতে পারে। সম্প্রচারকারী সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন। ফলে মাঠের আয়োজন থেকে শুরু করে দর্শকদের কাছে ম্যাচ পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ থাকছে।

তবে এবারের বৈঠকের বিশেষ তাৎপর্য আইপিএলের ২০ বছর পূর্তি। বিসিসিআইয়ের গত বার্ষিক সাধারণ সভাতেই প্রতিযোগিতার দু’দশক পূর্তি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন সেই উদযাপনকে কীভাবে বিশেষ করে তোলা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করতে চাইছে বোর্ড। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, প্রতিযোগিতার দীর্ঘ যাত্রাকে কীভাবে তুলে ধরা হবে এবং উদযাপনের কর্মসূচি কী হতে পারে, সেই বিষয়গুলি আলোচনায় উঠে আসতে পারে।

আইপিএলের জনপ্রিয়তা গত দুই দশকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। দেশ-বিদেশের ক্রিকেটারদের একই মঞ্চে নিয়ে আসার পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতা ভারতীয় ক্রিকেটের বাণিজ্যিক পরিসরকেও অনেকটা প্রসারিত করেছে। তাই ২০ বছর পূর্তির আয়োজনও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে করতে চাইছে বিসিসিআই। তবে কোনও একটি পক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়, সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত পরিকল্পনা তৈরি করার লক্ষ্য বোর্ডের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 5 =