আদালতে এলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়, এজলাস বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার বার অ্যাসোসিয়েশনের

দুদিন পর অবশেষে হাইকোর্টে এলেন বিচারপতি অভিজিত্ গঙ্গোপাধ্যায়। বার অ্যাসোসিয়েশনের ঘরে বসে হল মানভঞ্জন। ক্ষুব্ধ আইনজীবীদের রাগ ভুলে কাজে ফেরার আবেদন করলেন। তাতেই হল সুরাহা।
বিচারপতির এজলাস বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল বার অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ তিনি বার অ্যাসোসিয়েশনের দু’নম্বর ঘরে যান। উপস্থিত আইনজীবীদের সঙ্গে তিনি কথাও বলেন। আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘রাগ অভিমান করে থাকবেন না, কাজে ফিরুন। কাজ করতে গেলে মাথা গরম হয়, ওটা নিয়েই চলতে হবে। নতুন বছর আসছে পুরনো কথা ভুলে নতুন করে এগিয়ে যেতে হবে।’
প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলার শুনানি চলাকালীন এক আইনজীবীকে ‘সিভিল প্রিজন’-এ রাখার নির্দেশ দেওয়া নিয়ে বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে টানাপোড়েন শুরু হয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। এরপর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস ‘বয়কট করার’ ডাক দিয়েছিল বার অ্যাসোসিয়েশনের একাংশ। মঙ্গল এবং বুধবার এজলাসে আসেননি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর বৃহস্পতিবার অবশ্য তিনি এজলাসে এসে বসেন।এদিন এজলাসে বসে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানান, বেলা দেড়টা নাগাদ তিনি ২ নম্বর বারে যাবেন। সেখানে গিয়ে কথা বলবেন। তবে ‘সরি’ বলতে বা দুঃখপ্রকাশ তিনি করবেন না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিচারপতি।আর আইনজীবী প্রসঙ্গে কেন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, ঠিক কী ঘটেছিল এবং কোন পরিপ্রেক্ষিতে ঘটেছিল তা তিনি বলবেন। এই প্রসঙ্গে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘আপনারা সবাই আমার ভাই। কোনও যাতে ভুল বোঝাবুঝি না থাকে তা চাই।’
বিচারপতির ১৭ নম্বর এজলাসের বৃহস্পতিবার অন্যান্য দিনের মতোই কাজ শুরু হয়েছিল। ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ এজলাসে আসেন বিচারপতি স্বয়ং। এদিন বিচারপতি এজলাসে উপস্থিত হলে কিছু আইনজীবী মামলা লড়ার জন্য হাজির হন। কিন্তু, বেশিরভাগ মামলার ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায় আইনজীবীদের। এই দৃশ্য নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ আইনজীবীদের একাংশ। তাঁদের কথায়, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে একাধিক মামলার শুনানি হয়। মামলার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই উপস্থিত থাকেন। সেদিক থেকে বিচার করলে এদিনও দৃশ্যটা কিছুটা একরকম ছিল। কিন্তু, আইনজীবীদের একাংশ উপস্থিত ছিলেন না।
এদিন তিনটি মামলার ক্ষেত্রে মামলাকারীরা স্বয়ং বিচারপতির কাছে সওয়াল করলেও অন্য দুটি মামলাতে সওয়াল করেন আইনজীবীরা। কোনও একটি পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে নির্দেশ না দেওয়ার কথা স্পষ্ট করে দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে এর আগে বার অ্যাসোসিয়েশনের এই ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এজলাসের বাইরে যে দৃশ্য দেখা যেত তা এক্ষেত্রে নজরে আসেনি। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসের বাইরে আইনজীবীদের তরফে কোনও স্লোগানিং বা বিক্ষোভ দেখানো হয়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিশ্বব্রত বসু মল্লিক জানিয়েছিলেন, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ ডিভিশন বেঞ্চ খারিজ করেছে। এই নির্দেশ ঠিক হলে তা ডিভিশন বেঞ্চে খারিজ হত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *