খড়দায় বিশেষভাবে সক্ষম তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২২ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ

তিনি বিশেষভাবে সক্ষম। অভিভাবক বলতে শুধুই মা। বাবা মারা গিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে আলাপ হয়েছিল এক যুবকের সঙ্গে। যিনিও স্ত্রীর মৃত্যুতে একাকী। অন্তত তেমনটাই জেনেছিলেন। দু’জনের দুঃখ কখন যেন এক হয়ে বাড়ে ঘনিষ্ঠতা। মেলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি।
তবে সেই ঘনিষ্ঠতা আর বিশ্বাসের দাম যে নিজেদের সমস্ত আর্থিক সম্বল হারিয়ে দিতে হবে বুঝতেই পারেননি প্রেমে পড়া বিশেষভাবে সক্ষম তরুণী। যখন বুঝলেন তখন অন্তত ২২ লক্ষ টাকা সেই যুবককে বিশ্বাস করে দিয়ে দিয়েছেন। আর এও জেনেছেন তাঁর স্ত্রী দিব্যি বেঁচে-বর্তে আছে।
বিশেষভাবে সক্ষম তরণীকে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠল যাদবপুরের বাসিন্দা ইন্দ্রনীল ঘোষ ওরফে অমিত নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিশ্বাস-ভরসা জুগিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে ওই যুবক ২২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ধাপে ধাপে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে থানায় অভিযোগ করেছেন তরুণী। তিনি খড়দা পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাসখোলা এলাকার বাসিন্দা। সুবিচার চেয়ে খড়দা থানার দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী তরুণী জানান, বছর তিনেক আগে সামাজিক মাধ্যমে যাদবপুরের ইন্দ্রনীল ঘোষ নামে ওই যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। ওই যুবক তাঁকে জানিয়েছিল তাঁর স্ত্রী মারা গিয়েছেন। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবক তাঁকে বিয়েরও প্রতিশ্রুতি দেন।
ওই তরুণীর বাবা প্রয়াত পুলিশ কর্মী ছিলেন। যাদবপুরে একটি ভাড়া বাড়িতে বিধবা মা-সহ তাঁকে বেশ কিছুদিন রাখেন ওই যুবক। এমনকী ফ্ল্যাট কিনে দু’জনকে রাখার আশ্বাসও দিয়েছিলেন ওই যুবক। তরুণীর দাবি, বাড়ি বিক্রি বাবদ তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২৪ লক্ষ টাকা গচ্ছিত ছিল। ধাপে ধাপে ২২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ওই যুবক হাতিয়ে নেন। অভিযোগ, যাদবপুরে কিছুদিন থাকাকালীন তরুণী জানতে পারেন ওই যুবকের স্ত্রী জীবিত আছেন। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরেই তিমি সম্প্রতি খড়দা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *