কলকাতা : প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের আর্থিক ও আইনি প্রেক্ষাপট নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’ এবং ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ । বিশ্লেষণমূলক এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফার ধনাঢ্য প্রার্থীদের তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য রয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দফার সবচেয়ে ধনী প্রার্থীর নাম জাকির হোসেন। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের এই তৃণমূল প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ ১৩৩ কোটি টাকারও বেশি। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বাঁকুড়ার বড়জোড়ার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম মিশ্র, যাঁর সম্পদ ১০৫ কোটি টাকার অধিক। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর (পশ্চিম) কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত (সম্পদ ৭২ কোটি টাকার বেশি)। উল্লেখ্য, প্রথম দফার শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনই তৃণমূল কংগ্রেসের।
আর্থিক এই প্রাচুর্যের বিপরীতে চরম বৈপরীত্যও ধরা পড়েছে। দুর্গাপুর (পূর্ব) কেন্দ্রের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রার্থী রুবিয়া বেগমের হলফনামা অনুযায়ী তাঁর সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৫০০ টাকা।
অন্যদিকে, প্রার্থীদের আইনি প্রেক্ষাপটও বেশ উদ্বেগজনক। রিপোর্টে প্রকাশ, মোট ৩৪৫ জন (২৩%) প্রার্থী তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৯৪ জন গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত। এমনকি খুন বা হত্যার মতো অভিযোগে অভিযুক্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯।
দলভিত্তিক হিসেবে গুরুতর ফৌজদারি মামলার অভিযোগ স্বীকার করেছেন বিজেপির ৯৬ জন (৬০%), তৃণমূলের ৪৮ জন (৩২%), সিপিএমের ৩৬ জন (৩৭%) এবং কংগ্রেসের ৩৩ জন (২২%) প্রার্থী।
এই প্রসঙ্গে সংস্থার রাজ্য সমন্বয়কারী উজ্জয়িনী হালিম জানান, “প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে সম্পদ ও অপরাধমূলক মামলার প্রশ্নে একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখা গেছে। ভোটারদের সচেতন করার জন্য এই তথ্যগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রথম দফার ভোটের আগে এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। প্রার্থীদের এই বিপুল সম্পদ এবং অপরাধমূলক পটভূমি গণতন্ত্রের পক্ষে কতটা স্বাস্থ্যকর, তা নিয়ে ভোটারদের একাংশের মনে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

