নারী শক্তির স্বপ্নভঙ্গ করেছে কংগ্রেস ও বিরোধীরা, জাতির উদ্দেশে ভাষণে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি : মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) বিল সংসদে পাশ করাতে না পারার জন্য দেশের নারীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি সরাসরি কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টিকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “ভারতের নারী শক্তির উড়ান আটকে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলোর স্বার্থপরতার জন্য দেশের নারীশক্তির উন্নয়ন থমকে গেল। মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করাকে ‘পাপ’ বলে অভিহিত করে মোদী বলেন, “ওরা যা করেছে, তা নারীদের আত্মসম্মানের ওপর চরম আঘাত। নারী সব ভুলে গেলেও নিজেদের অপমান ভোলেন না। সংসদে যা ঘটেছে, তা মহিলারা মনে রাখবেন।” এমনকি এই বিল রুখে দেওয়াকে ‘ভ্রূণহত্যা’র সঙ্গে তুলনা করেন তিনি।

কংগ্রেসকে মহিলা সংরক্ষণের চিরন্তন বিরোধী বলে তোপ দেগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস সবসময়ই এই বিলের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে। এবারও তারা এবং তাদের সঙ্গীরা মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে বিলটি আটকে দিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “আশা ছিল কংগ্রেস নিজেদের অতীতের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে, কিন্তু তারা ইতিহাস তৈরির সুযোগ হারাল।” তাঁর দাবি, কংগ্রেসের এই নেতিবাচক অবস্থান অনেক আঞ্চলিক দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিয়েছে।

বিরোধী দলগুলিকে ‘পরিবারতান্ত্রিক’ বলে আক্রমণ করে মোদী বলেন, “এরা চায় না নিজেদের পরিবারের বাইরের কোনও মহিলা এগিয়ে আসুক। সেই কারণেই মহিলাদের ক্ষমতায়নে এদের এত অনীহা।”

সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন নিয়ে বিরোধীদের ‘বিভাজনের রাজনীতি’র কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ডিলিমিটেশন নিয়ে কংগ্রেস ও তার শরিকরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। মোদীর আশ্বাস, এই প্রক্রিয়ায় কোনও রাজ্যের ক্ষতি হতো না; বরং বিলটি পাশ হলে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলি থেকে আরও বেশি সংখ্যক প্রতিনিধি সংসদে আসতে পারতেন। তৃণমূল ও ডিএমকে-র মতো দলগুলি নিজেদের রাজ্যের বাসিন্দাদের স্বার্থক্ষুণ্ণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরিশেষে, তিন তালাক রোধ, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ থেকে শুরু করে ডিজিটাল পেমেন্ট— সরকারের প্রতিটি সংস্কারবাদী পদক্ষেপের বিরোধিতাই কংগ্রেসের দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি এসআইআর, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করার ক্ষেত্রেও কংগ্রেস প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − thirteen =