বারুইপুর : বারুইপুরে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেন। পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়িরও উদ্বোধন করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্যাতিতার পরিবার তাঁদের কথা শুনেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ট্রায়ালের মাধ্যমে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।
গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের ঘটনা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, নাম ও পরিচয় দেখে ইন্দ্রজিৎকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে উস্কানি এবং মৌলবাদী শক্তির যোগ থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৩৫ বছরের এক যুবককে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ইন্দ্রজিতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। পরিবারের জন্য বাড়িও তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদেরও কঠোর শাস্তি হবে বলে জানান তিনি।
নির্যাতিতার পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে এলাকায় পুলিশ আউটপোস্ট তৈরি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সিসি ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি কন্ট্রোল রুম তৈরির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিরীহ মানুষ যাতে পুলিশি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইজিকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এলাকায় আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ না রাখতে পুলিশকে মাইকিং করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বেআইনি মদের ঠেক, গাঁজা ও চরসের বিরুদ্ধে জেলা ধরে গোটা রাজ্যে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, সাধারণ মানুষ নয়, ভয় পাক অপরাধীরা।

