কলকাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে গণপিটুনিতে নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে শনিবার পরিদর্শনে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই সফরের ঠিক আগেই পুলিশ এই গণপিটুনি মামলায় আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এর ফলে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ-এ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে এই মামলায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে চালানো বিশেষ অভিযানে আরও তিনজনকে জালে তোলা হয়। অন্যদিকে, ঘটনার দিন পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা এবং রেল অবরোধের মতো বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর অভিযোগে পৃথক মামলায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে ১২ বছর বয়সী এক নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ ওঠে, নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে। দেহ উদ্ধারের পর গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং স্থানীয়রা সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এই চরম উত্তেজনার মাঝেই স্রেফ সন্দেহের বশে স্থানীয় যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে ধরে উত্তেজিত জনতা নৃশংসভাবে মারধর করে, যার জেরে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান যে, নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন এবং ভিড়ের উন্মত্ততায় তাঁকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তিনি নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সরকারি সাহায্য এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।
মুখ্যমন্ত্রী এর আগেই নির্যাতিতা নাবালিকা এবং নিহত যুবকের পরিবারের সাথে দেখা করেছিলেন। সে সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষার দাবিতে সূর্যপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি গড়ে তোলার ঘোষণা করেছিলেন তিনি। প্রশাসনের তৎপরতায় মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে সেই ফাঁড়ি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবারের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে মৃত নাবালিকার বাড়ি যাবেন, এরপর ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং সবশেষে নবনির্মিত এই পুলিশ ফাঁড়িটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
ইন্দ্রজিতের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন তিনি ঘরেই ঘুমোচ্ছিলেন। কিছু মানুষ আচমকা তাঁকে জোরপূর্বক ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে মারধর করে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবারটি। বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইন্দ্রজিতের ঘর মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তদের আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালীন এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশ এনকাউন্টারে মারা যায়। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিন পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি এক পুলিশ কর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায়। এই এনকাউন্টারের ঘটনারও পৃথক তদন্ত চলছে এবং শুক্রবার ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে।

