বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে সরব তৃণমূলের একাংশ, বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি কংগ্রেসের

কলকাতা : বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। একদিকে যেখানে শাসকদল বিজেপি একে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস একে ‘উত্তর প্রদেশ মডেল’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আবার কংগ্রেস আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা রাখার কথা বলেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্য সরকার ও পুলিশের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির সঙ্গে উত্তর প্রদেশের তুলনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে “উত্তর প্রদেশ মডেল” প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং একে “জঙ্গলরাজ”-এর সূচনা বলে অভিহিত করেন। পুলিশের এই কথিত “অতিসক্রিয়তা” নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন।

তবে তৃণমূলেরই অন্য শিবিরের নেত্রী শিউলি সাহা সরকারের পদক্ষেপের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কোনো অভিযুক্ত যদি পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে আইনে এনকাউন্টারের বিধান রয়েছে। ধর্ষণের অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি তিনি এও জানান যে, এই ধরনের পদক্ষেপ সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও আইনের সীমার মধ্যেই হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই ঘটনাকে “ঐশ্বরিক বিচার” বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে যে, কোনো অপরাধীকেই রাজনৈতিক আশ্রয়ের ভিত্তিতে রেয়াত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলার দাবিও জানান।

কংগ্রেস এই পুরো ঘটনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী বলেন, যেকোনো অভিযুক্তেরই আইন অনুযায়ী ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং আদালতই ঠিক করবে তার কী শাস্তি হওয়া উচিত। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই এনকাউন্টারের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই ১২ বছর বয়সী নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। তাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে সবার প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করানোর সময় প্রভাস মণ্ডল আচমকাই এক পুলিশ কর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলিও চালায়। এরপর পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে সে গুরুতর জখম হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + 18 =