‘ফলাফল শূন্য’, দিল্লিতে ইন্ডি জোটের বৈঠকে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

কলকাতা : বুধবার দিল্লিতে আয়োজিত ‘ইন্ডি’ জোটের হাই-ভোল্টেজ বৈঠক নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করলেন। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, সংবাদমাধ্যমের জন্য খবর শুধুই নেতাদের দিল্লি যাওয়া এবং সেখান থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এই বৈঠক থেকে কোনো ফল বেরোবে না।

বুধবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “সংবাদমাধ্যমের কাছে কেবল এটাই খবর যে ওঁরা দিল্লি যাচ্ছেন এবং দিল্লি থেকে ফিরে আসছেন। কিন্তু এর থেকে কী ফলাফল আসবে? কিছুই হওয়ার নেই, পুরো বিষয়টাই শূন্য।”

উল্লেখ্য, বুধবার নতুন দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডি জোটের এই বিশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকটিতে মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে তোলা নানা অভিযোগ ও উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিরোধী জোটের অভ্যন্তরে আলোচনার পর এদিনের বৈঠকের খসড়া এজেন্ডা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই কংগ্রেস কার্যনির্বাহী কমিটি (ডব্লিউসিএ) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাস করেছে। এদিনের বৈঠকে এই সমস্ত ইস্যু নিয়ে বিরোধীদের যৌথ রাজনৈতিক কৌশল ও প্রতিক্রিয়া নির্ধারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনার জবাবে দিলীপ ঘোষ কংগ্রেসের অতীত নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এই একই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই কংগ্রেস অতীতে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। কংগ্রেস টানা দশ বছর দেশ শাসন করেছে এবং একাধিক রাজ্যে এই একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছে। দিলীপ ঘোষ বলেন, “কমিশন তো সেই একই রয়েছে, আসলে এখন ওদের পরাজয়ের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, তাই কমিশনের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে।”

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার তীব্র সমর্থনে সুর চড়িয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমেই ভুয়ো ও বেআইনি ভোটারদের শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া গেছে। তিনি দাবি করেন, যে সমস্ত ব্যক্তি দেশের বৈধ নাগরিক নন অথবা যাদের কাছে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র নেই, কেবল তাদের নামই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে এই ধরনের বেআইনি নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিরোধিতা করে কোনো লাভ হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 − three =