প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে নামা উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে পর্তুগালের জয় নিয়ে খুব বেশি সংশয় ছিল না। তবে ম্যাচ শুরুর আগে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন একজনই—ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছিল, তিনি কি সত্যিই আগের মতো ধারালো রয়েছেন, নাকি সময়ের সঙ্গে তাঁর জাদু ফিকে হয়ে এসেছে? মাঠে নেমে সেই সব প্রশ্নের জবাব দিলেন স্বয়ং রোনাল্ডো। গোল করলেন, ইতিহাস গড়লেন এবং পর্তুগালকে বড় জয়ের পথে নেতৃত্ব দিলেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। চতুর্থ মিনিটেই নুনো মেন্দেসের বাড়ানো বল থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন রোনাল্ডো। যদিও তখন বল জালে জড়াতে পারেননি তিনি। সেই ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার সুর ওঠার আগেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই গোল করে নতুন ইতিহাস গড়েন রোনাল্ডো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার বিরল কীর্তি গড়লেন তিনি। এই নজির আপাতত অন্য কারও পক্ষে স্পর্শ করা কঠিন বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
১৭ মিনিটে পর্তুগালের দ্বিতীয় গোলেও ছিল রোনাল্ডোর বড় ভূমিকা। ফ্রি-কিকের পরিস্থিতিতে সবাই ভেবেছিল শট নেবেন তিনিই। উজবেকিস্তানের রক্ষণও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে রোনাল্ডো সরে দাঁড়ান এবং নুনো মেন্দেসের জোরালো শট সরাসরি জালে গিয়ে জড়ায়। রোনাল্ডোর বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনায় হতভম্ব হয়ে যায় প্রতিপক্ষ।
২৯ মিনিটে উজবেকিস্তান একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। সেই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আরও একবার আঘাত হানে পর্তুগাল। ৩৮ মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনাল্ডো। এর ফলে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও নিজের নামে করে নেন তিনি।
প্রথমার্ধ শেষে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের খোঁজে মরিয়া ছিলেন রোনাল্ডো। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন এবং প্রতিপক্ষ রক্ষণকে চাপে রাখেন। ৫৯ মিনিটে উজবেকিস্তানের এক আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বেড়ে যায়। এরপর ম্যাচের ৮৭ মিনিটে রাফায়েল লিয়াও গোল করে পর্তুগালের জয়কে আরও উজ্জ্বল করে তোলেন।
হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন রোনাল্ডো। একাধিক শট নিলেও ভাগ্য তাঁর পক্ষে ছিল না। ম্যাচের শেষদিকে গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পেয়ে কিছুটা খুঁড়িয়ে হাঁটতেও দেখা যায় তাঁকে। তবুও মাঠ ছাড়েননি তিনি। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত গোলের জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক না পেলেও এই ম্যাচটি পুরোপুরি রোনাল্ডোময় হয়ে রইল। তাঁর দুই গোল, একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড এবং দুর্দান্ত নেতৃত্বে ৫-০ ব্যবধানের বড় জয় তুলে নিল পর্তুগাল। সেই সঙ্গে নকআউট পর্বে ওঠার পথও কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল ইউরোপের এই শক্তিশালী দল।

