ঘানার রক্ষণে আটকাল ইংল্যান্ড, গোলশূন্য ড্রয়ে হতাশ কেনরা 

ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগকে আটকে দিয়ে বড় চমক দেখাল ঘানা। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে রাখল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জমাট রক্ষণ, শারীরিক ফুটবল এবং পাল্টা আক্রমণের মিশেলে ইংল্যান্ডকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয় ঘানা।
খেলার শুরু থেকেই বলের দখল ছিল ইংল্যান্ডের কাছে। হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যাম, অ্যান্টনি গর্ডনদের নিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে টমাস টুখেলের দল। তবে ঘানার রক্ষণভাগ এতটাই সংগঠিত ছিল যে ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলাররা সহজে কোনও ফাঁক খুঁজে পাননি। ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় বেলিংহ্যাম ও কেনের বোঝাপড়া থেকে একটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ তৈরি হলেও ঘানার ডিফেন্ডারদের ভিড়ে তা হারিয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ডদের বিরুদ্ধে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল ঘানা। কেন বা গর্ডন বল পেলেই দুই থেকে তিনজন ডিফেন্ডার তাঁদের ঘিরে ধরছিলেন। ফলে আক্রমণে গতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ঘানাও সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে ইংরেজ রক্ষণকে চাপে ফেলেছে। যদিও তারাও গোলের দেখা পায়নি।
ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দুই দলের শারীরিক লড়াই। মাঠে বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২১ মিনিটের মাথায় ঘানার অধিনায়ক জর্ডন আয়েউ এবং ইংল্যান্ডের রিস জেমসের মধ্যে মাথায় মাথায় সংঘর্ষ হয়। আয়েউর মাথা ফেটে যায় এবং কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর ব্যান্ডেজ বেঁধে তিনি আবার খেলায় ফেরেন। এর আগে হ্যারি কেনও এক সংঘর্ষে মাথায় চোট পান। একাধিকবার পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে ম্যাচটি ফুটবলের চেয়ে কুস্তির লড়াইয়ের মতো মনে হচ্ছিল। বড় চোটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে একের পর এক পরিবর্তন আনেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল। ৬৫ মিনিটে বুকায়ো সাকা এবং নিকো ও’রেইলিকে মাঠে নামানো হয়। তাঁদের বদলে তুলে নেওয়া হয় জেড স্পেন্স ও অ্যান্টনি গর্ডনকে। উইং ব্যবহার করে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে ইংল্যান্ড। পরে ৮৩ মিনিটে ননি মাদুয়েকের পরিবর্তে নামানো হয় মার্কাস র‌্যাশফোর্ডকে। জয়ের জন্য হাতে থাকা প্রায় সব আক্রমণাত্মক অস্ত্রই ব্যবহার করেন টুখেল।
তবু গোলের মুখ খুলতে পারেনি ইংল্যান্ড। বরং ম্যাচের শেষদিকে সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। ৮৬ মিনিটে নিকো ও’রেইলির হেড বার থেকে ফিরে এলে ছয় গজ বক্সের সামনে একেবারে ফাঁকা অবস্থায় বল পান কেন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। বল অনেক ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
এই ড্রয়ের ফলে ঘানা আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মতো একটি ফল পেল। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জন্য এটি সতর্কবার্তা। কাগজে-কলমে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগ থাকলেও মাঠে সেই ধার দেখা যায়নি। ঘানার শক্ত রক্ষণভাগের সামনে ইংল্যান্ডের আক্রমণে বৈচিত্র্যের অভাব স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বে ভালো ফল করতে হলে টুখেলের দলকে আক্রমণে আরও কার্যকর এবং সৃজনশীল হতে হবে। নইলে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্বপ্ন বড় ধাক্কা খেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − nine =