তৃণমূলের কাছে ‘আন ওয়ান্টেড’ হলেও ব্যারাকপুরের মানুষের কাছে তিনি ‘ওয়ান্টেড’, বললেন সাংসদ অর্জুন সিং

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে প্রার্থী হতে না পেরে তৃণমূলের ওপর ক্ষুব্ধ সাংসদ অর্জুন সিং। ব্যারাকপুর থেকে তাঁকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হবে এমন আশা নিয়েই রবিবার ব্রিগেডের সভামঞ্চে তিনি গিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রিগেডে গিয়ে তাঁকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়। মঞ্চে বসে বেলা ১১-৪৬ মিনিট নাগাদ জানতে পারেন, তিনি টিকিট পাচ্ছেন না। তবুও দলের অনুগত সৈনিকের মতোই মঞ্চে বসেছিলেন তিনি।
রবিবার ব্রিগেড ময়দান থেকে ফিরে জগদ্দলের মজদুর ভবনে এসে দফায় দফায় তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্যারাকপুর কেন্দ্রের সাংসদ অর্জুন সিং। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল ছাড়ার কথা সরাসরি ঘোষণা না করলেও, তৃণমূলের প্রতি একরাশ ক্ষোভ, অভিমান তাঁর গলায় এদিন শোনা যায়। তাঁর কথায়, দলের প্রতি তাঁর ভরসা নেই। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ অর্জুন সিং বলেন, ‘তৃণমূলের কাছে তিনি এখন ‘আন ওয়ান্টেড’। কিন্তু ব্যারাকপুরের মানুষের কাছে তিনি ‘ওয়ান্টেড’।’ সাংসদের কথায়, ২০১৯ সালে ব্যারাকপুরের মানুষ তাঁকে আশীর্বাদ করেছিলেন। এখনও ব্যারাকপুরের জনতার আশীর্বাদ তাঁর মাথায় আছে। তবে তৃণমূলে ফিরে আসা তাঁর খুব ভুল হয়েছিল। এদিন প্রকাশ্যে তা স্বীকার করে নেন। এ প্রসঙ্গে সাংসদের বক্তব্য, এই ভুল থেকে তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। পাশাপাশি ছেলে পবন সিংয়ের দূরদর্শিতার প্রশংসা করেন তিনি। সাংসদের কথায়, ছেলে পবন একাধিকবার তাঁকে বলেছিল ওরা তাঁকে টিকিট দেবে না। পবনের সেই কথাই অবশেষে সত্য হল। তৃণমূল প্রার্থী পার্থ ভৌমিককে নিশানা করে সাংসদ অর্জুন সিং বলেন, ‘নিজের সুবিধার্থে দু’জন বিধায়ককে লেলিয়ে দিয়েছিল তাঁরই ভালো বন্ধু পার্থ ভৌমিক। তবে তিনি সামনাসামনি লড়াই করতে বেশি পছন্দ করেন। ওনার মতো পিছন থেকে কিংবা আড়ালে থেকে লড়াই করা তাঁর অভ্যাস নয়। এমনকী তিনি সবসময় জেতার জন্যই লড়াই করে থাকেন’।
দেশ জুড়ে সিএএ বিল লাগু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানান ব্যারাকপুরের সাংসদ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মতুয়া ও নমঃশূদ্র ভাইদের সম্মান দিয়েছেন। যারা অন্য দেশে থেকে এদেশে এসেছেন অবশেষে তাঁরা সম্মান পেলেন।’ সাংসদের দাবি, মানুষের আবেগ মোদিজির পক্ষে। গোটা দেশে নিশ্চিতরূপে বিজেপি ভালো ফল করবে। আর ব্যারাকপুর ব্যারাকপুরের জায়গায় থাকবে। সূত্র বলছে, তিনি ফের বিজেপিতেই যোগ দিতে চলেছেন। যদিও বিজেপিতে যাওয়া আটকাতে মরিয়া প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে ঘাসফুল শিবির।
প্রসঙ্গত, ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সাংসদকে ফোন করে কিছু প্রস্তাব দেন। যদিও সেই প্রস্তাবকে ‘ললিপপ’ আখ্যা দেন তিনি। কিন্তু কী সেই ললিপপ, তা খোলসা করতে চাননি ব্যারাকপুরের বাহুবলী। সূত্র বলছে, তাপস রায়ের ছেড়ে যাওয়া বরানগর কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী করার ‘টোপ’ দেওয়া হয়েছিল সাংসদকে। এমনকী ভোটে জিতলে মন্ত্রী করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। যদিও তিনি সেই প্রস্তাবও নাকচ করে দেন। সাংসদের বক্তব্য, দল তাঁকে যথাযোগ্য সম্মান দেয়নি। শেষ মুহূর্তে তাঁকে যেভাবে ধোঁকা দেওয়া হল ব্যারাকপুরের মানুষ তা চাক্ষুস করলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *