টিকিট না পেয়ে অজ্ঞাতবাসে তৃণমূল বিধায়ক, দল ছাড়ার জল্পনা

ঝাড়গ্রাম: ব্রিগেডের সভায় ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী হিসেবে কালীপদ সরেনের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই অজ্ঞাতবাসে রয়েছেন দলের জেলা সভাপতি তথা নয়াগ্রামের তিনবারের বিধায়ক দুলাল মুর্মু। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই তার সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কারো ফোন ধরছেন না। কেউ দেখাও করতে পারছে না। এই অবস্থায় তার দল ছাড়া নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে সাঁওতালি সাহিত্যিক কালীপদ সরেনকে প্রার্থী করা নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য না করলেও তারপর থেকেই দলের জেলা সভাপতি নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।

দলের একটি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, নয়াগ্রামের বিধায়ক তথা জেলা সভাপতি হিসেবে দুলাল মুর্মু এবার লোকসভায় টিকিট পাবেন বলে নিশ্চিত ছিলেন। তার এই অজ্ঞাতবাস এবং দলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক অজিত মাহাতো সাংবাদিকদের জানান, ব্যক্তিগত কারণেই হয়তো দুলালবাবু নিভৃতাবাসে রয়েছেন। আমাদের দল ছেড়ে অন্য কোথাও তিনি যাবেন না। আমরা সবাই দলের প্রার্থীর হয়ে লড়াইয়ে নেমেছি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি-ঝাড়গ্রাম জেলায় ভালো ফল করার পর কালীপদ সরেন বিজেপিতে যোগদেন। সেই বিজেপি হাওয়াতেই গত লোকসভা নির্বাচনেও গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে জয়লাভ করেন। এরপর দু’বছরের মধ্যেই হঠাৎ দেখা যায় কালীপদ সরেন বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে নাম লেখান। গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে দুলাল মুর্মুকে জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার তার লোকসভায় প্রার্থী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু শিকে ছিঁড়ল না। তাই চরম হতাশ দুলাল মুর্মু বিজেপিতে যোগ দিতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে। বিজেপির এক জেলা নেতা বলেন, দুর্নীতিতে ভরা তৃণমূলে কেউ কাজ করতে পারে না। তবে, তৃণমূলের অন্দরে এই টানাটানির মধ্যেই একটি অংশ কালীপদ সরেনের সমর্থনে দেওয়াল লিখন শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *